
বিশেষ প্রতিবেদন, ২ মার্চ ২০২৬: ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির উত্তরসূরি হিসেবে ১৯৮৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন আলী খামেনেই। ৮৬ বছর বয়সে শনিবারের হামলায় নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ছিলেন দেশটির বিচার বিভাগ, সামরিক বাহিনী এবং গণমাধ্যমের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রক।
সংকট জয়ের কারিগর: খামেনেইর শাসনকাল ছিল চ্যালেঞ্জে ভরা। ১৯৯৯ সালের ছাত্র বিক্ষোভ, ২০০৯ সালের নির্বাচনী বিতর্ক নিয়ে গণবিক্ষোভ, ২০১৯ সালের জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি বিরোধী আন্দোলন এবং সবশেষে ২০২২-২৩ সালের 'নারী, জীবন, স্বাধীনতা' আন্দোলন—প্রতিটি সংকটই তিনি অত্যন্ত কঠোর হস্তে দমন করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবন ও নিরাপত্তা: খামেনেই অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বসবাস করতেন। ১৯৮১ সালে এক হত্যা প্রচেষ্টায় তাঁর ডান হাত আংশিক অবশ হয়ে যায়। ১৯৮৯ সালে উত্তর কোরিয়া সফরের পর তিনি আর কখনো দেশের বাইরে পা রাখেননি।
ক্ষমতায় আরোহণ: ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ পর্যন্ত তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। খোমেনির মৃত্যুর পর যখন 'অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস' তাঁকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মনোনীত করে, তখন তিনি প্রথমে অনিচ্ছা প্রকাশ করে বলেছিলেন, "আমি এর বিরোধী"। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর হাতেই ন্যস্ত হয় ইরানের ভাগ্য।
রাজনৈতিক দর্শন: ছয়জন নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের সাথে কাজ করলেও খামেনেই সবসময় কট্টরপন্থীদের পক্ষ নিয়েছেন। পশ্চিমা বিশ্বের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনের যেকোনো প্রচেষ্টাকে তিনি সবসময় সন্দেহের চোখে দেখতেন।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।