
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: ১২/৪/২৬
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিয়ে এবং একাধিক সম্পর্কের অভিযোগের কারণে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা রবিবার সকাল ১১টায় অভিযুক্ত বরের বাড়ির সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বরের ছবি সংবলিত পোস্টার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে “বর তুমি কার?” স্লোগান দেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ভুক্তভোগীদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড়লই জকরিয়া টারী গ্রামের মৃত আবেদ আলী দর্জির দ্বিতীয় ছেলে বাবু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে দুবাই প্রবাসে রয়েছেন। প্রবাসে থাকার সময় তিনি একই গ্রামের জয়নাল দর্জির কন্যা জিম খাতুনকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উল্লেখ্য, জিম খাতুন স্থানীয় একটি সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়েটি কোনো কাজী অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে রেজিস্ট্রি না হলেও, ভিডিও কলের মাধ্যমে বরের পরিবারের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং দেশে ফিরে সংসার শুরু করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগও প্রকাশ্যে এসেছে। এলাকাবাসীর দাবি, বাবু মিয়া বিদেশে থাকার সময় পার্শ্ববর্তী নওদাবশ গ্রামের সিরাজুল হকের কন্যা শিরীনা খাতুনের সঙ্গেও একইভাবে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিয়ে করেছেন। তিনিও একজন শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
এ ঘটনার পর এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে কয়েকজন ব্যক্তির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী জানান, “মোবাইল বিয়ের নামে প্রতারণা ও একাধিক সম্পর্কের বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া জরুরি। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
এদিকে, পুরো বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বড়লই গ্রামের ইউপি সদস্য মাহবুল হক খন্দকার বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং দুঃখজনক। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিয়ের নামে একাধিক সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ সত্য, বিষয়টি সামাজিক ও নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এতে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি পুরো এলাকায় বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।”
আসাদুজ্জামান, জেলা প্রতিনিধি,কুড়িগ্রাম
০১৭১৮৬৮৫৪০৮
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।