
নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর, ২ মার্চ ২০২৬: রংপুরের শ্যামপুরে অবস্থিত দেশের অন্যতম প্রাচীন চিনিকল 'শ্যামপুর সুগার মিলস' এখন কেবলই এক কঙ্কালসার শিল্প প্রতিষ্ঠান। ২০২০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শেষবারের মতো চিনি উৎপাদনের পর এটি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ১১১ একর জমির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই মিলের শত শত ট্রাক্টর ও যন্ত্রপাতি খোলা আকাশের নিচে নষ্ট হচ্ছে। অথচ অদ্ভুতভাবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে এটি এখন ৩৯তম সর্বোচ্চ মূল্যের শেয়ারে পরিণত হয়েছে।
আর্থিক চিত্র: ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মিলটির নিট লোকসান ছিল ২৫ কোটি টাকা এবং পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৬৬ কোটি টাকায়। ৭০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্থলে এখন মাত্র ৬৩ জন কর্মরত আছেন, যাদের অধিকাংশ ই অস্থায়ী নিরাপত্তা কর্মী।
শেয়ার দর বৃদ্ধির কারণ: বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মিলটির শেয়ার সংখ্যা কম হওয়ায় কারসাজি চক্র বা 'ম্যানিপুলেটররা' সহজেই এর দর নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে। কোনো মৌলিক ভিত্তি ছাড়াই কেবল গুজবের ওপর ভর করে দাম বাড়ানো হচ্ছে, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ফাঁদ হতে পারে।
আঞ্চলিক অর্থনীতিতে প্রভাব: এক সময় বছরে ৯০০ কোটি টাকা আবর্তিত হতো এই মিলকে কেন্দ্র করে। প্রায় ৪০ হাজার কৃষক সরাসরি আখ চাষের সাথে জড়িত ছিলেন। মিলটি বন্ধ হওয়ার পর স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসা, পরিবহন ও সেবা খাত মুখ থুবড়ে পড়েছে। কৃষকরা আখের বদলে ভুট্টা ও সবজি চাষে ঝুঁকলেও আগের মতো লাভ করতে পারছেন না।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।