
অর্থনীতি ডেস্ক, ৩ মার্চ ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান সংঘাতের মাঝেই ওপেক প্লাস (OPEC+) দেশগুলো দৈনিক ২ লক্ষ ৬ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যেখানে প্রতিদিন ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহনের পথ 'হরমুজ প্রণালী' কার্যত বন্ধ, সেখানে এই সামান্য উৎপাদন বৃদ্ধি সমুদ্রের মাঝে এক ফোঁটা জলের মতো।
বাজারের প্রতিক্রিয়া: সোমবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম এক লাফে ১৩.৬ শতাংশ বেড়ে ৮২.৩৭ ডলারে ওঠে, যা গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। যদিও পরবর্তীতে দাম কিছুটা কমে ৭৯.১০ ডলারে থিতু হয়েছে, তবে অস্থিরতা এখনো কাটেনি।
হরমুজ প্রণালী ও সরবরাহ ঝুঁকি: বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে যায়। বিমাকারী ও জাহাজ মালিকরা যুদ্ধের ঝুঁকি নিতে না চাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে। যদিও ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পথটি বন্ধ করেনি, কিন্তু যুদ্ধের দামামা জাহাজ চলাচলকে অসম্ভব করে তুলেছে।
চীন ও ভারতের কৌশল: বিশ্বের শীর্ষ আমদানিকারক দেশ চীন ইতিমধ্যে তেল কেনা কমিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। অন্যদিকে, ভারত তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাম্পের সাথে চুক্তি উপেক্ষা করেই আবারও রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার পথে হাঁটছে।
এলএনজি (LNG) সংকট: তেলের পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজারও ঝুঁকিতে। কাতারের মোট এলএনজি রপ্তানির ২০ শতাংশই এই পথ দিয়ে যায়। সরবরাহ ব্যাহত হলে এশিয়া ও ইউরোপে জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি বিদ্যুৎ খরচ বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।