
ফিচার ডেস্ক, ৪ মার্চ ২০২৬: আজকের ফিফা বিশ্বকাপ মানেই কোটি কোটি মানুষের আবেগ আর গ্লোবাল সেলিব্রেশন। কিন্তু বিংশ শতাব্দীর শুরুতে চিত্রটা এমন ছিল না। তখন ফুটবল ছিল অলিম্পিক গেমসের শৌখিন নিয়মের বেড়াজালে বন্দি। সেই বৃত্ত ভাঙার স্বপ্ন দেখেছিলেন ফিফা সভাপতি জুলে রিমে।
অলিম্পিকের বাধা ও স্বাতন্ত্র্য: ১৯০৮ সালের লন্ডন অলিম্পিকে প্রথমবার জাতীয় দলগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ ফুটবলে নতুন মাত্রা যোগ করে। কিন্তু অপেশাদারিত্বের কড়া নিয়মে ফুটবলের প্রকৃত রোমাঞ্চ ঢাকা পড়ে যাচ্ছিল। ১৯৩২ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক থেকে ফুটবল বাদ পড়ার সিদ্ধান্তটিই ছিল শাপে বর। জুলে রিমে ঘোষণা করলেন এক স্বাধীন বিশ্ব আসরের—নাম দিলেন 'জুলে রিমে ট্রফি'।
উরুগুয়ের সাহস ও ইউরোপের অনীহা: প্রথম আসর আয়োজনের দৌড়ে ইতালি, স্পেন বা নেদারল্যান্ডস থাকলেও বাজিমাত করে উরুগুয়ে। স্বাধীনতার শতবর্ষ উদযাপনে তারা সব দলের যাতায়াত ও আবাসন খরচ বহনের প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে ১৯৩০ সালে আটলান্টিক পাড়ি দেওয়া ছিল দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল। ফলে অনেক ইউরোপীয় দেশ অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
ঐতিহাসিক সেই সমুদ্রযাত্রা: সংকটকালে এগিয়ে আসেন রোমানিয়ার রাজা দ্বিতীয় ক্যারল। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, যুগোস্লাভিয়া ও রোমানিয়া—এই চার ইউরোপীয় দল ‘এসএস কোন্তে ভার্দে’ (SS Conte Verde) জাহাজে চড়ে সমুদ্র পাড়ি দেয়। পথে তাদের সাথে যোগ দেয় ব্রাজিল। এই যাত্রাটি কেবল একটি টুর্নামেন্টে যাওয়া ছিল না, বরং ফুটবলের এক নতুন যুগের প্রবেশদ্বার ছিল।
প্রথম চ্যাম্পিয়ন: ১৩টি দল আর ১৮ দিনের লড়াই শেষে ১৯৩০ সালের জুলাই মাসে মন্টিভিডিওতে ইতিহাস লেখা হয়। ফাইনালে উরুগুয়ে ৪-২ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে প্রথম বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। সেই ছোট শুরুটিই আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসবে পরিণত হয়েছে।

মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।