
সাভারের নবীনগরে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধের সামনের মহাসড়কে এক ব্যতিক্রমী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। বাণিজ্যিক যানবাহন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান EICHER-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেন সামাজিক সংগঠন মানবতার স্পর্শ ফাউন্ডেশন-এর একদল স্বেচ্ছাসেবক।
মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত চলা এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবকরা সেনা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে থেকে সাভার ডিওএইচএস পর্যন্ত মহাসড়কের একপাশ পরিষ্কার করেন এবং সেখানে জমে থাকা বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য অপসারণ করেন। পরিচ্ছন্নতা অভিযানের সময় স্বেচ্ছাসেবকরা রাস্তার পাশে পড়ে থাকা প্লাস্টিক, পলিথিন, কাগজ ও অন্যান্য আবর্জনা সংগ্রহ করে নির্ধারিত স্থানে অপসারণ করেন।
আয়োজকদের মতে, জাতীয় স্মৃতিসৌধ শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়; এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতীক। প্রতিদিন দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ এখানে এসে শ্রদ্ধা জানান এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে স্মরণ করেন। তাই স্মৃতিসৌধের আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং এর সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রাখা সবার নৈতিক দায়িত্ব।
মানবতার স্পর্শ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সাব্বির আহমেদ বলেন, “মানবতার স্পর্শ ফাউন্ডেশন সবসময় সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বিভিন্ন মানবিক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি করতে চাই, যাতে সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে পরিবেশ রক্ষা ও দেশকে পরিষ্কার রাখতে এগিয়ে আসে।”
এই কর্মসূচির কো-অর্ডিনেটর হাসিবুর রহমান বলেন, “স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিক অংশগ্রহণ এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণেই আজকের এই কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন সামাজিক ও পরিবেশ সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা।”
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পবিত্র রমজান মাসে মানবিকতা, দায়িত্ববোধ এবং সামাজিক সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তারা মনে করেন, এ ধরনের কার্যক্রম মানুষের মাঝে ইতিবাচক চিন্তা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলে।
এই কার্যক্রমে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকরাও জানান, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক স্থানগুলো পরিচ্ছন্ন রাখা সবার দায়িত্ব। তাদের মতে, ছোট ছোট উদ্যোগই বড় পরিবর্তনের পথ তৈরি করে এবং এমন উদ্যোগ নিয়মিত হলে পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
EICHER-এর সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী সকল স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আয়োজকরা। একই সঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আরও অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এ ধরনের সামাজিক কার্যক্রমে এগিয়ে আসবে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি পরিচ্ছন্ন, সচেতন ও দায়িত্বশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।