
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ৫ মার্চ ২০২৬: দেইর আল-বালাহতে এখন যুদ্ধের চেয়েও বেশি আতঙ্ক ছড়িয়েছে নীরবতা। ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যে বড় ধরণের যুদ্ধ শুরু হওয়ার সাথে সাথেই গাজার লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত সীমান্ত পারাপারগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে গাজায় দেখা দিয়েছে দুর্ভিক্ষের সংকেত।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি: মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ২৫ কেজি আটার বস্তার দাম ৩০ শেকল থেকে বেড়ে ১০০ শেকলে দাঁড়িয়েছে। রান্নার তেল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। ইসরায়েলের প্রশাসনিক কড়াকড়ি এবং পারমিট জটিলতায় খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
মানবিক বিপর্যয়: ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (MSF) এবং কেয়ার (CARE)-এর মতো ৩৭টি আন্তর্জাতিক এনজিও-কে নতুন রেজিস্ট্রেশন আইনের বেড়াজালে কার্যক্রম স্থগিত করতে বলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট আপিল চলাকালীন কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিলেও বাস্তবে কোনো ত্রাণ গাজায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এই সংস্থাগুলো গাজার অর্ধেক খাদ্য সহায়তা এবং ৬০ শতাংশ ফিল্ড হাসপাতালের সেবা দিয়ে আসছিল।
ভূ-রাজনৈতিক বলি: আন্তর্জাতিক সম্পর্কের "ডাইভারশনারি থিওরি" অনুযায়ী, বড় ধরণের আঞ্চলিক যুদ্ধের আড়ালে গাজার সমস্যা এখন গৌণ হয়ে পড়েছে। পশ্চিমা বিশ্ব এখন তেহরানকে দমানো এবং হরমুজ প্রণালীর জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে এতটাই ব্যস্ত যে, গাজার এই চরম মানবিক সংকট বিশ্ব কূটনীতির রাডার থেকে হারিয়ে গেছে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।