
ভারতের দক্ষিণি রাজনীতিতে এক অভাবনীয় মোড় নিয়েছেন অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু। রাজ্যের ক্রমহ্রাসমান জন্মহার বৃদ্ধিতে এক অভিনব আর্থিক প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, যেসব দম্পতি দ্বিতীয় বা তার বেশি সন্তানের জন্ম দেবেন, তাঁদের সরকার এককালীন ২৫ হাজার রুপি প্রদান করবে। চলতি মাস থেকেই এই বিশেষ পরিকল্পনা কার্যকর করার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বর্তমানে অন্ধ্র প্রদেশে জন্মহার বা ‘টোটাল ফার্টিলিটি রেট’ (টিএফআর) আশঙ্কাজনকভাবে কমে ১.৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা জনসংখ্যার স্বাভাবিক প্রতিস্থাপন স্তরের (রিপ্লেসমেন্ট লেভেল) নিচে। মুখ্যমন্ত্রী নাইডুর লক্ষ্য এই হারকে দ্রুত ২.১ শতাংশে উন্নীত করা। তিনি মনে করেন, এই পদক্ষেপ কেবল জনসংখ্যাই বাড়াবে না, বরং রাজ্যের ভবিষ্যতের জন্য এটি একটি ‘গেম চেঞ্জার’ বা খেলা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত হবে।
চন্দ্রবাবু নাইডুর এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে ভারতীয় সংসদীয় রাজনীতির এক গভীর কৌশল। ২০২৬ সালের পর ভারতে লোকসভা আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ‘ডিলিমিটেশন’ হওয়ার কথা রয়েছে। ভারতের নিয়ম অনুযায়ী, যে রাজ্যের জনসংখ্যা বেশি, সংসদে সেই রাজ্যের আসন সংখ্যাও বেশি হয়। উত্তর ভারতের হিন্দি বলয়ের রাজ্যগুলোতে (যেমন উত্তর প্রদেশ, বিহার) জন্মহার বেশি হওয়ায় ডিলিমিটেশনের পর সেখানে আসন সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
হিসাব অনুযায়ী, নতুন বিন্যাসে উত্তর প্রদেশের আসন ৮০ থেকে বেড়ে ১২৮ হতে পারে, অথচ দক্ষিণি রাজ্যগুলোর আসন সংখ্যা সে তুলনায় খুব সামান্যই বাড়বে। এর ফলে দাক্ষিণাত্যের রাজ্যগুলোর সাহায্য ছাড়াই শুধু উত্তর ভারতের সমর্থনে যেকোনো দল দেশ শাসন করতে পারবে—এমন আশঙ্কা থেকেই নাইডু এই দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যা বৃদ্ধির পথে হাঁটছেন।
বিজেপি সরকারের শরিক হওয়ায় চন্দ্রবাবু নাইডু সরাসরি কেন্দ্রীয় নীতির বিরোধিতা করতে পারছেন না। তবে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনসহ দক্ষিণি অন্য নেতাদের মতো তিনিও মনে করেন, জন্ম নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে সফল হওয়ার কারণে দক্ষিণি রাজ্যগুলো যেন সংসদে কম প্রতিনিধিত্বের ‘শাস্তি’ না পায়। ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে দক্ষিণের রাজনৈতিক ক্ষমতা কমে যাওয়া ঠেকাতেই তিনি এখন ঘরে ঘরে সন্তান সংখ্যা বাড়ানোর এই ‘আর্থিক টোপ’ ব্যবহারের কৌশল নিয়েছেন।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।