
ঢিবি, দেউল বা মঠ বলতে আমরা বাংলার অনেক ভগ্ন বা অর্ধ-আবিষ্কৃত এবং মাটির তলদেশের স্থাপনার চিত্র দেখতে পাই। বাংলায় এমন কিছু মঠ, দেউল বা ঢিবি সকলের কাছে যথেষ্ট পরিচিত, তবে দক্ষিণ বাংলার ভরত ভায়না কিছুটা অন্তরালে রয়ে গিয়েছে। এই দেউলের সন্ধানে যেতে হবে ১৮০০ বছর পেছনে, বুড়ি-ভদ্রা নদীর পাড়ে। গুপ্ত যুগের প্রভাবশালী রাজা ভরত এই দেউল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যার জন্য এটি "ভরত রাজার দেউল" বা "ভরত ভায়না" নামে পরিচিত। দক্ষিণের যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলা থেকে ১৯ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান (২২°৫০'৫৯.১৫'' উত্তর ৮৯°২০'৫৫.৪৮'' পূর্ব)।
ইতিহাস অনুসন্ধান করে আমরা দেখতে পাই, খ্রিস্টীয় ২০ শতকের গোড়ার দিকে সেখানে ১২.১১ মিটার উঁচু এবং ২৬৬ মিটার পরিধির একটি ঢিবির অস্তিত্ব ছিল। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ১৯৮৪ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত পর্যাক্রমে সাত অর্থ বছরের বরাদ্দ পেয়ে এখানে খননকার্য পরিচালনা করে। খননের ফলে জানা যায়, ভূমিকম্পের ফলে দেউলটি যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই দেউলে মোট ৯৪টি কক্ষের সন্ধান পাওয়া যায়। ধারণা করা হয়, উপরিভাগের কক্ষে একটি জাঁকজমকপূর্ণ উপাসনালয় ছিল। উপাসনালয়ের চারপাশে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা পূণ্য অর্জন করতেন। এখানের প্রতিটি কক্ষের দেওয়াল ৩ থেকে ১৩ মিটার পর্যন্ত চওড়া এবং অনেক ইট ৩৬ থেকে ৫০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত আছে। ইট শিকারীদের দ্বারাও দেউলটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
"ভরত ভায়না" দক্ষিণ বঙ্গের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য, যা আমাদের ধারণা দেয় যে, প্রাচীনকালে এ অঞ্চলে বৌদ্ধদের যথেষ্ট পদচারণা ছিল। ইতিহাসের এই কংকালসার অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে, এই সমস্ত স্থাপনা সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।