
রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানিয়েছেন, কুমিল্লা পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেন এবং বাসের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের জন্য রেল কর্তৃপক্ষ ১ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ বরাদ্দ করেছে।
তিনি এই তথ্যটি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর ঘোষণা করেন. পরবর্তীতে, প্রতিমন্ত্রী কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে নিহতদের পরিবারের সদস্য ও আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
হাবিবুর রশিদ দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন, রেলওয়ে ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলা বরদাশত করা হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার জরুরি ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসন মৃতদের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেছে। তাছাড়া, রেলওয়ের পক্ষ থেকে প্রতিটি নিহতের পরিবারকে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আহতদের চিকিৎসার ওপর নজরদারি রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, 'এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর আমাদের দুইটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। প্রথমত, দেশের সকল গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিংয়ে আন্ডারপাস বা ওভারপাস নির্মাণ করা হবে। দ্বিতীয়ত, বিদ্যমান লেভেল ক্রসিংগুলোকে ধাপে ধাপে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে, যাতে ট্রেন আসার আগে গেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়।'
মন্ত্রী আরও জানান, এসব ক্রসিংয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গার্ড নিয়োগ দেওয়া হবে।
তিনি এ বিষয়ে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন এবং সরকারের এসব সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করবে।
দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। দুই গেটম্যানের অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং ইতোমধ্যে তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে। স্টেশন মাস্টারকেও জবাবদিহির আওতায় এনে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি বিভাগীয় এবং একটি জোনাল তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পরিদর্শনের শেষে, রেল প্রতিমন্ত্রী কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে নিহতদের স্বজন ও আহতদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং তাদের সান্ত্বনা প্রদান করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উৎবাতুল বারী এবং স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।
উল্লেখ্য, রোববার ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের পদুয়ারবাজার লেভেল ক্রসিংয়ে ঢাকাগামী ‘চট্টগ্রাম মেইল’ ট্রেনের সাথে লক্ষ্মীপুরগামী ‘মামুন স্পেশাল’ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জনের মৃত্যু হয় এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হন।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।