
অর্থনীতি ডেস্ক, ২৩ মার্চ ২০২৬: বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মজুদ বর্তমানে একটি সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। বিপিসির তথ্যমতে, ডিজেলের মজুদ দাঁড়িয়েছে ১.৫৩ লাখ টনে, যা ১২ দিনের চাহিদা পূরণে সক্ষম। পেট্রোলের মজুদ ১৬,৫০০ টন, যা ১১ দিনের জন্য যথেষ্ট, এবং অকটেনের মজুদ ১০,৭০০ টন, যা ৯ দিনের চাহিদা মেটাতে পারে। এছাড়া অপরিশোধিত তেলের মজুদ রয়েছে ১৩-১৪ দিনের জন্য।
সংকটের কারণ: মার্চ মাসের শুরুতে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে 'প্যানিক বায়িং' বা অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা দেখা দেয়। পাশাপাশি, রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পরিবহন চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় মজুদে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি সৃষ্টি হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিয়মিত সরবরাহকারীরা 'ফোর্স মেজিউর' (অনিবার্য পরিস্থিতি) ঘোষণা করেছে, ফলে এপ্রিলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্নতা দেখা দিয়েছে।
সরকারের পদক্ষেপ: পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিপিসি স্পট মার্কেট থেকে ১৮ লাখ টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে ৩টি জাহাজ ২৫-২৭ মার্চের মধ্যে চট্টগ্রামে পৌঁছাবে, যা ৬.৫ দিনের ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করবে। এছাড়া এপ্রিল মাসে ইন্দোনেশিয়া থেকে ৬টি জাহাজে ১২.৫ দিনের সমপরিমাণ জ্বালানি আসার কথা রয়েছে। ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি অব্যাহত রয়েছে। বিকল্প হিসেবে, কাজাখস্তান, নেদারল্যান্ডস এবং রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।