
"বাসটি পানিতে পড়ে যাওয়ার পর জানালা ধরে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলাম। বাসের নিচ থেকে পানি প্রবাহিত হয়ে স্রোত তৈরি হয়েছিল, তার সাথে আমি ভেসে গেছি। আমি কিভাবে বের হলাম, তা কেবল আল্লাহ জানেন।"
এভাবেই বিবিসি বাংলাকে জানালেন রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাসের একজন sobreviviente, মোহাম্মদ রাজীব সরদার।
তিনি উল্লেখ করেন, গোয়ালন্দের জামলতা এলাকা থেকে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিতে উঠে ছিলেন এবং বাসের পেছনের দিকে একটি আসনে অবস্থান করছিলেন।
মি. সরদার জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় বাসটির সব সিটেই যাত্রী ছিলেন। দৌলতদিয়া ফেরির জিরো পয়েন্ট থেকে ওই বাসে উঠেছিলেন দুজন যাত্রী।
তিনি জানান, ফেরিতে ওঠার সময় শেষ মুহূর্তে জায়গা না পাওয়ার কারণে কুমারখালি থেকে ঢাকাগামী বাসটি পন্টুনের সামনে পরবর্তী ফেরির জন্য অপেক্ষা করছিল। জানালা দিয়ে পরবর্তী ফেরিটি ঘাটে প্রবেশ করতে দেখেছিলেন তিনি।"কিন্তু কি ঘটলো, আমি কিছুই বুঝতে পারিনি। বাসটি হঠাৎ করে টান দিয়ে নদীতে পড়ে গেল, আমার উপর আরো কয়েকজন ছিলেন, আমি অনেক চেষ্টা করেও তাদের সরাতে পারছিলাম না," বলেন মি. সরদার।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ২৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন।
নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা হচ্ছে এবং মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে, জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার। এই দুর্ঘটনায় নিহতদের বেশিরভাগের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী এবং রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন এলাকায়। আকস্মিক এই ঘটনার ফলে নিহতদের পরিবারগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে নিহতদের অনেকের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মার পানিতে ডুবে যাওয়া বাসটিতে থাকা যাত্রীদের অধিকাংশই ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছিলেন। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় তাদের পরিবারে শোকের মাতম চলছে।
বৃহস্পতিবার সকালে প্রিয়জনের মরদেহ নিতে এসে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে আহাজারি করছিলেন পোশাক শ্রমিক আব্দুল আজিজ।
তিনি নিজেও দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি থেকে বেঁচে ফিরেছেন, তবে সঙ্গে থাকা তিন স্বজনকে হারিয়েছেন।
মি. আজিজ বলছিলেন, ঈদের ছুটি শেষে গর্ভবতী স্ত্রী নাজমিরা বেগম, ছয় বছরের শিশু আব্দুর রহমান ও শাশুড়ি নাসিমা বেগমকে নিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন। তারা রাজবাড়ির কালুখালি থেকে বাসে উঠেছিলেন।
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ডুবে যাওয়া বাসটি থেকে তিনি কোনো রকমে বেরিয়ে আসতে পারলেও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা নিখোঁজ হন।
এই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে রাজবাড়ির কালুখালি কালিকাপুর এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ উজ্জ্বলের। তিনি পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপন শেষে ঢাকায় ফিরছিলেন।
বৃহস্পতিবার সকালে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের দুর্ঘটনাস্থলে তাকে খুঁজছিলেন মি. উজ্জ্বলের বাবা। পরে জানতে পারেন রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে তার মরদেহ রয়েছে।
সকাল থেকেই রাজবাড়ী সদর হাসপাতালজুড়ে ছিল শোকের আবহ। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া ২৬ মরদেহের ২২টি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাকিগুলোর পরিচয় শনাক্ত করে তাদের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জেলা প্রশাসন।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।