
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি। Katha 24
বুধবার রাতে কাপাশহাটিয়া ইউনিয়নের কুল্ল্যাগাছা ভাতুড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত আবুল কাশেম ওই ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুল আজিজ, মেশাররফ হোসেন, নায়েব আলী, আবুল কালাম আজাদ, মাসুদুর রহমান, মিটুল হোসেন, গোলাম মোস্তফা, মতিয়ার রহমান লিটন ও মাজিজ মন্ডলসহ আরও অনেকে। এদের মধ্যে আব্দুল আজিজ, নায়েব আলী ও মতিয়ার রহমানের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে নিহতের ছেলে মেহেদি হাসান বৃহস্পতিবার ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০-১৫ জনকে আসামি করে হরিণাকুণ্ডু থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে এখনো মামলা রেকর্ড হয়নি এবং কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। সমাবেশে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাইজাল হোসেন দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
পুলিশ জানায়, কয়েকদিন আগে ফেসবুকে একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বুধবার আবারও তর্ক-বিতর্ক ও ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে রাতে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয়পক্ষ। সংঘর্ষ চলাকালে আবুল কাশেম মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময়ই তিনি গুরুতর আহত হন। তবে স্থানীয় যুবদল নেতা সাইদুর রহমান বিটুর দাবি, বাজার থেকে ফেরার পথে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
অন্যদিকে উপজেলা জামায়াতের আমির বাবুল হোসেন দাবি করেন, আবুল কাশেম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এ ঘটনায় হত্যা হয়নি।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফুদ্দৌলা ঝন্টু জানান, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পরিবারটি বিএনপি ও জামায়াতে বিভক্ত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি গোলাম কিবরিয়া হাসান বলেন, ঘটনার পরপরই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।