
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি। কথা২৪
বিশ্ববিদ্যালয়ের জারুলতায় আয়োজিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান সকলকে আহ্বান জানান, নতুন দেশ গঠনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য।
‘জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্খা পূরণ হয়েছে’
বক্তব্যের শুরুতে উপাচার্য নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনার যে আকাঙ্খা ছিল, আজকের অনুষ্ঠানে আমাদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ দেখে মনে হচ্ছে, আমরা বহুলাংশে সফল হয়েছি। চট্টগ্রাম শহর ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যে প্রাণচাঞ্চল্য, উৎসাহ-উদ্দীপনা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির অনুভূতি আমি দেখেছি—এতেই মনে হয়েছে আমাদের সব কষ্ট সফল হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ।”
‘রংধনু জাতি গঠনের প্রত্যয় বাস্তবায়িত হচ্ছে’
উপাচার্য আরও বলেন, “এ দেশ আমাদের কারো একার নয়; এটি ১৮ কোটি বাংলাদেশির। আজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি কোণায় রংধনু জাতি গঠনের প্রত্যয় দৃশ্যমান। বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও বর্ণের মানুষ এই ধারণাকে ধারণ করেছে। আমি আশাবাদী, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ হবে বৈষম্যহীন। সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা দেশকে কাঙ্খিত উন্নতির পথে নিয়ে যেতে পারবো।”
শাটল ট্রেন সমস্যা সমাধানের আশ্বাস ও জিরো টলারেন্স নীতি
উপাচার্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনের সমস্যাসহ অন্যান্য সমস্যার সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সবসময় কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, “বর্তমান সরকার কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। সকল অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করা হয়েছে। চবি ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যেন নির্বিঘ্নে পাঠদান ও পাঠগ্রহণ করতে পারে, সেদিকে নজর থাকবে।”
তিনি ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদ, দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।
উপাচার্যের বক্তব্য: ডিপিপি ও শাটল সমস্যার কথা উল্লেখ
উদ্বোধক ও প্রধান বক্তার বক্তব্যে চবি মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান আরও বলেন, “আজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হচ্ছে।” তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ৭১-এর বীর শহীদ ও জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করেন।
উপাচার্য আরও বলেন, “২০১৭ সালের পর থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ডিপিপি (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) আসেনি, যার ফলে দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে আবাসন বা নতুন ভবন গড়ে ওঠেনি।” এছাড়া শাটল ট্রেনের সমস্যার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যান্য বক্তব্য
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান শিক্ষাখাতে আরও বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান। অপর বিশেষ অতিথি, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও পহেলা বৈশাখ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন বলেন, “গণতান্ত্রিক পরিবেশে নতুন বাংলাদেশে দারুণভাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হচ্ছে। পহেলা বৈশাখ আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে শেখায়।”
এছাড়া স্বাগত বক্তব্য রাখেন চবি প্রক্টর প্রফেসর ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী, শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন চাকসু ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি, জিএস সাঈদ বিন হাবিব এবং এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক।
দিনব্যাপী উৎসবের আয়োজন
“এসো প্রাণের উৎসবে, জাগো নব আনন্দে” এই প্রতিপাদ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে। এর মধ্যে ছিল বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বৈশাখী শোভাযাত্রা, আলোচনা পর্ব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুতুল নাচ, নাগরদোলা, বলি খেলা, বউচি খেলা ও কাবাডি খেলা। এছাড়া দিনব্যাপী বৈশাখী ও বিশেষ উদ্যোক্তা মেলার আয়োজন করা হয়।
সকাল সাড়ে ১০টায় চবি স্মরণ চত্বর থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। শোভাযাত্রাটি কাটা পাহাড় ও শহীদ মিনার প্রদক্ষিণ করে জারুলতলায় গিয়ে শেষ হয়। অনুষ্ঠানে ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে পবিত্র বাণী পাঠ ও শহীদদের প্রতি এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
উপাচার্যসহ অতিথিরা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী আয়োজনে অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য, ডিন, প্রক্টর, প্রভোস্ট, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সাংবাদিক ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
মো. আল আমিন, চবি প্রতিনিধি
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।