
আজকের দিনটি ছিল রুবেল হোসেনের জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত। মাঠে খেলার চেয়ে নিজেকে আড়ালে রাখতেই যিনি বেশি পছন্দ করতেন, সেই ‘লাজুক’ রুবেল আজ আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে পা রাখার সময় তাঁর হাতে ছিল ছোট ছেলে আয়ানের হাত। যখন তাঁর সতীর্থ তামিম ইকবাল বিদায়ী স্মারক তুলে দিচ্ছিলেন, গ্যালারিতে তখন ২০১৫ বিশ্বকাপের সেই ‘অ্যাডিলেড বীর’ সম্পর্কে দীর্ঘশ্বাস অনুভূত হচ্ছিল।
রুবেল ১৫ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর অবসরের কথা জানান। আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে বিসিবির আয়োজন করা সংবর্ধনায় এটি আনুষ্ঠানিক রূপ নেয়। তবে, গত কয়েক বছর ধরে রুবেলের পরিচয় ‘মোটর বাইক ব্যবসায়ী’ হিসেবে বদলে গিয়েছিল। ২০২১ সালের পর থেকে জাতীয় দলে অনুপস্থিত এ পেসার যখন প্রেসবক্সে উপস্থিত হন, তখন অনেকের মনে প্রশ্ন ছিল— তিনি কি এতদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ছিলেন?
বিস্মৃতির প্রান্ত থেকে আবার সামনে আসলেন রুবেল। সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি লাজুক হাসি দিয়ে বললেন, "আমি তো কথা ভালো বলতে পারি না, কী বলতে আবার কী বলে ফেলি!"
মাশরাফি বিন মুর্তজা, তাসকিন আহমেদ এবং মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে রুবেল প্রায়ই ছিলেন ডাগআউটে। যদিও ভালো ফর্মে থাকলেও তিনি ‘টিম কম্বিনেশন’-এর বলি হয়েছেন বহুবার। কিন্তু অধিনায়কের প্রয়োজন মেটাতে, রুবেলই ছিলেন সেই ট্রাম্পকার্ড।
খাঁচা থেকে বের হওয়া বাঘের মতো বল করা এবং উইকেট পাওয়ার পর উল্লাস— এসব দৃশ্য ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে গেঁথে থাকবে চিরকাল। বিশেষভাবে ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাঁর দুর্দান্ত স্পেলই রুবেলকে দেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে এক অনন্য উচ্চতায় স্থাপন করেছে।
শচীন যেমন বিদায়ের দিনে ওয়াংখেড়ের পিচ ছুঁয়ে কেঁদেছিলেন, রুবেলও আজ মিরপুরের উইকেটের কাছে গিয়ে বসে ছিলেন। তিনি অনুভব করেছেন সেই মাটি, যা তাঁকে রুবেল হোসেন বানিয়েছে। এই ‘হোম অব ক্রিকেট’-এর প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মুহূর্তটি ছিল দিনের সবচেয়ে আবেগময়।
স্লিঙ্গিং অ্যাকশন নিয়ে যখন তিনি পেসার হান্ট থেকে উঠে এসেছিলেন, সাবেক বোলিং কোচ চম্পকা রমানায়েকে বলেছিলেন, "এই অদ্ভূত অ্যাকশনটাই ওর শক্তি।" ক্যারিয়ারের শেষ বিপিএল পর্যন্ত রুবেল তাঁর সেই স্বকীয়তা অটুট রেখেছিলেন।

কথা২৪-এর শেষ কথা: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রুবেল হোসেনের দৌড় থেমে গেছে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অকল্যান্ডের সেই টি-টুয়েন্টিতে। ১৬ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন ২৭টি টেস্ট, ১০৪টি ওয়ানডে এবং ২৮টি টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলে। মাঠে হয়তো রুবেল আর ফিরবেন না, কিন্তু আড়ালে থাকতে চাওয়া এই নায়কের ‘শিকল ছেঁড়া উল্লাস’ বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় অমলিন থাকবে।
কথা২৪/বিভাগ: খেলাধুলা/ক্রিকেট
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।