চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাটল ট্রেনে ছাত্রদলের নামে স্লোগান দিয়েছে বহিরাগত চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে শহরগামী শাটল ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে।
১৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ‘শহিদ জিয়ার গড়া দল, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল’ এবং ‘গুপ্তের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ স্লোগান দিতে শোনা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা শাটল ট্রেনে উঠে পলিটেকনিক স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করেন। এরপর বটতলী স্টেশনে গিয়ে তারা নেমে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাকিব হোসেন শুভ্র বলেন, ‘শাটল ট্রেন মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য। এ সময় অনেকেই পড়াশোনা করেন। বহিরাগতদের শাটলে উঠে এ ধরনের দলীয় স্লোগান দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। শাটল স্লোগান দেওয়ার জায়গা নয়। বিষয়টি চবি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পর্কিত, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘চবি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শাটলে বহিরাগতদের ওঠা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা এবং পলিটেকনিকে শাটল স্টপেজ বন্ধ করা উচিত।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাস্টার্সের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এটা খুবই নিন্দনীয় কাজ। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের শাটল ট্রেনে বহিরাগতরা উঠে আবার দলীয় স্লোগান দেয়—এটা ভাবাই যায় না। আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? রাজনীতি সবার অধিকার আছে, তাই বলে যেখানে-সেখানে রাজনীতি চলে না। আর এগুলো সরকারের কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো পদক্ষেপ ছাড়া সম্ভব নয়, বরং এটা তাদের ইন্ধনেই হয়েছে।’
এ বিষয়ে চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা বিষয়টি জানার পরপরই প্রক্টর অফিসে গিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছি। একই সঙ্গে একজন নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার ঘটনারও প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘পলিটেকনিকে শাটল ট্রেনের যে হল্ট রয়েছে, সেটি বন্ধ করার বিষয়েও আমরা দাবি জানিয়েছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, ‘চাকসু প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। পলিটেকনিকের কিছু শিক্ষার্থী স্লোগান দেওয়ার মাধ্যমে উত্যক্ত করার চেষ্টা করেছে। চাকসুর পক্ষ থেকেও দাবি ছিল, শাটল ট্রেন যেন পলিটেকনিকে না থামে। আমরা পলিটেকনিকের অধ্যক্ষকে জানিয়েছি, যেন তারা সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে অধ্যক্ষ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে পলিটেকনিক এলাকার দিকে শাটল না থামানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি বগিতে নিরাপত্তার জন্য একজন করে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ও বলা হয়েছে। এ নিয়ে আগামী সপ্তাহে উপাচার্যের সঙ্গে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বৈঠক হবে।’
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।