
রাজধানী ঢাকার যানজট সমস্যা বিশেষজ্ঞদের বারবার পরামর্শ দেওয়ার পরেও, ছোট যানবাহনের নিয়ন্ত্রণে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। গত দেড়দশকে, ঢাকায় বাসের সংখ্যা বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম, তবে ব্যক্তিগত গাড়ি, জিপ (এসইউভি) এবং মোটরসাইকেলের সংখ্যা বেড়ে গেছে দ্রুত গতিতে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর তথ্য এবং সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থা বর্তমানে চরম সংকটে রয়েছে।
পরিসংখ্যানের বাস্তবতা বিআরটিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে ঢাকায় নিবন্ধিত যানবাহনের মধ্যে বাস ও মিনিবাসের অংশ ছিল মাত্র ৫ শতাংশ। ২০২৫ সালে এসে দেখা যাচ্ছে, মোট যানবাহনের সংখ্যা ১৯ লাখ ছাড়িয়ে গেলেও, বাসের হার কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২.৮৩ শতাংশে।
বিপরীত চিত্র ২০১০ সালের তুলনায় ২০২৫ সাল নাগাদ ব্যক্তিগত গাড়ি ও এসইউভির সংখ্যা ১৫২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে শহরের ৫৩ শতাংশ যাত্রী বাসে চলাচল করলেও, রাস্তা দখলের ক্ষেত্রে দেখা যায়, মাত্র ১৫ শতাংশ রাস্তা বাসের দখলে রয়েছে। অন্যদিকে, ব্যক্তিগত গাড়িগুলি যাত্রী সংখ্যা মাত্র ৯ শতাংশ হলেও, সেগুলি রাস্তার ৭০ শতাংশ স্থান দখল করে রেখেছে।
গণপরিবহন ও প্রকল্পের অবহেলা বিগত সরকারের আমলে ঢাকার যানজট নিরসনের জন্য ফ্লাইওভার ও মেট্রোরেলের মতো বড় প্রকল্পে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় করা হয়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রধান বাহন 'বাস' ব্যবস্থার কোনো উন্নয়ন হয়নি। ২০০৫ সালের কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (এসটিপি) অনুযায়ী বাস রুট র্যাশনালাইজেশন ও একক কোম্পানির অধীনে বাস চালানোর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ফ্লাইওভারের ওপর এখন যানজট একটি সাধারণ দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাসের সংখ্যা বৃদ্ধির বাধা পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৯ সাল থেকে নতুন বাসের রুট পারমিট দেওয়া অনেকটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া:
পুরোনো বাস তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে মালিকরা নতুন বিনিয়োগে সাহস পাচ্ছেন না।
স্বল্প সুদে ঋণের প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা কার্যকর হয়নি।
ভারত ও চীন থেকে আমদানি করা নিম্নমানের অনেক বাস কয়েক বছরের মধ্যেই অকেজো হয়ে গেছে।
বর্তমানে সড়কে চলাচলকারী অধিকাংশ বাসের রুট পারমিট ও ফিটনেস মেয়াদোত্তীর্ণ।
ব্যাটারিচালিত রিকশার বিপদ বাসের সংকটের সুযোগ নিয়ে প্রায় ১৫ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। যাত্রী অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এই ছোট ও অবৈধ যানের আধিক্যের কারণে সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান মন্তব্য করেন, "বিগত সরকারগুলো মূলত গাড়ি কেনাকে উৎসাহিত করেছে এবং বাস চলাচলে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সরকারের উচিত বাস ব্যবস্থাপনায় মনোযোগ দেওয়া। তবে এখন পর্যন্ত সে ধরনের কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।"
যাত্রীদের দাবি ঢাকার সাধারণ যাত্রীদের মতে, মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি যাতায়াত সহজ করতে মানসম্মত বাসের সংখ্যা বাড়ানোর এখন সময়ের দাবি।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।