
কথা২৪ । বরিশাল প্রতিনিধি
স্থানীয় ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে নগরীর ৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলার মো. কামাল হোসেন শরীফের কাছে ২০১০ সালের ২৭ আগস্ট দুই পক্ষের স্ব স্ব কাগজপত্র নিয়ে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকের এক পক্ষ ছিল এলাকার মৃত শফিজ উদ্দিন কবিরাজের ছেলে মো. নুরুন্নবী (খোকন) ও তার গং এবং অন্য পক্ষ ছিল মৃত আব্দুল হক হাওলাদারের দুই ছেলে মো. নুর হোসেন এবং মো. ইউনুস হাওলাদার, সহ ছোবাহান হাওলাদারের ছেলে মো. ইউসুব হাওলাদার।
ঘটনার মূল বিষয় হলো: জেল নং-৩৪, এসএ ১৯ নং খতিয়ানের এসএ ৪০৪/৩৯৬ নং দাগের ১৮ শতাংশ জমি এবং বিএস ২২৪ নং খতিয়ানে বিএস ৫৪৪/৫৬২ নং দাগের ১৮ শতাংশ জমির বৈধ মালিকানা দাবিদার দুই পক্ষ। এই জমি জীবিত অবস্থায় লাল বরু’র কাছ থেকে ১৮ শতাংশ জমি ক্রয় করেন শফিজ উদ্দিন কবিরাজ। অন্যদিকে, দ্বিতীয় পক্ষও দলিলমূলে জমির মালিকানা দাবি করে। সালিশ রোয়েদাদে উল্লেখ করা হয় যে,
এমতাবস্থায়, সালিসগণ লাল বরুকে সালিশ-মীমাংসায় সবার মধ্যে ডেকে ঘটনার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৩৮৬ সনের ২১শে ভাদ্র তারিখে নগদ টাকা গ্রহণ করে দলিল মূলে জমি শফিজ উদ্দিনকে বুঝিয়ে দিয়েছেন। পরবর্তীকালে, লাল বরু নিরক্ষর মহিলা হওয়ায় দ্বিতীয় পক্ষ বিভিন্ন অজুহাতে বিভিন্ন তারিখে দলিল সৃজন করে। তবে তিনি তাদের বরাবরে কোনো দলিল দেননি এবং জমির দখলও বুঝিয়ে দেননি।
সালিসগণের সভাপতি মোঃ শাহজাহান সিরাজ ও ৯ জন সালিশদার সিদ্ধান্ত দেন যে, সরেজমিনে বাড়ি ঘর, বাগান, পুকুর ১ম পক্ষের রয়েছে এবং ২য় পক্ষের বিরোধীয় ভূমিতে দখল নেই। লাল বরু’র নিরক্ষরতা এবং তার বক্তব্যের ভিত্তিতে তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, তফসিল ভূমিতে ১ম পক্ষ প্রাপ্ত হবে। লাল বরুর মৌখিক বক্তব্যে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, ২য় পক্ষ লাল বরুর অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে ১৩/০১/২০১০, ১/২/২০১০ এবং ১৭/৫/২০১০ তারিখে দলিল সৃজন করেছে।
পরে, শফিজ উদ্দিন পরলোক গমন করলে তার ওয়ারিশ জমিতে বসতঘর উত্তোলন, আশেপাশে গাছ পালা রোপণ ও পুকুর কেটে মাছ চাষ শুরু করেন। কিন্তু একযুগ পর নুরুন্নবী গং জমি জোরপূর্বক দখল করতে চাইলে বরিশাল সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ২৫/১০ নং মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের বিচারক উভয় পক্ষকে জমিতে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন এবং অ্যাডভোকেট কমিশনারকে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রেরণের নির্দেশ দেন। ২০১০ সালের ৮ আগস্ট বাদীর পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আরিফ হোসেন অপু আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
অপরদিকে, লাল বরুর মৃত্যুর পর তার মেয়ে মোসাম্মৎ ফিরোজা বেগম গং বাদী হয়ে বরিশাল বিজ্ঞ জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ জেলা জজ আদালতে মো. নুরুন্নবী ওরফে খোকন কবিরাজ গংকে বিবাদী করে একটি মামলা ১৫/২৪ নং দায়ের করেন। আদালতে বিচারক ২০১৫ সালের ২৮ জুলাই রায় প্রদান করেন। পরে, ফিরোজা বেগম তার বিবাদী নুরুন্নবীর দায়েরকৃত মামলায় (২৫/১০) দেয়া দলিলের সই ও স্বাক্ষর পরীক্ষার জন্য আদালতে ফরেনসিক ল্যাবরেটরীতে ফিঙ্গার প্রিন্টের আবেদন করেন। আদালতে আগামী ১১ মে পরবর্তী ধার্য তারিখ থাকলেও, ফিরোজা বেগম গং মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জমি দখল করে বৃক্ষ রোপণ শুরু করেছেন।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে, নুরুন্নবী ওরফে খোকন বলেন, বিষয়টি এলাকার সবাই কম বেশি জানে। তারা বলবে। তিনি আদালতের প্রতি সম্মান রেখে জমিতে থাকা বসতঘর, পুকুর ও বাগানে যান না। ঘর ভেঙে গেলেও মেরামত তো দূরের কথা, রক্ষণাবেক্ষণও করেন না। তবে বিবাদী গং আইন মানছে না। যদিও তার প্রতিপক্ষ জমির বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হননি।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।