
ডেস্ক রিপোর্ট | Katha24.com
আর মাত্র আট দিন পর দায়িত্ব শেষ হচ্ছে দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের। গণ-অভ্যুত্থানের পর চরম রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক অস্থিরতার মধ্যে দায়িত্ব নেওয়া এই সরকার এক বছরের মাথায় দাঁড়িয়ে রেখে যাচ্ছে আলোচিত কিছু সাফল্য, পাশাপাশি বিতর্ক ও সীমাবদ্ধতার দীর্ঘ তালিকা।
সমালোচকরা যেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া এবং দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত না হওয়ার অভিযোগ তুলছেন, সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে—একটি অনাগ্রহী প্রশাসনিক কাঠামো ও স্বাধীন বিচার বিভাগের সীমাবদ্ধতার মধ্যেই তাদের কাজ করতে হয়েছে।
বিশেষ করে পুলিশের একটি বড় অংশ সরকারের প্রতি সহযোগিতামূলক ছিল না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি ব্যাহত হয়। অন্যদিকে বিচার নিশ্চিত করতে গিয়ে সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ না করায় অনেক ক্ষেত্রেই অভিযুক্তরা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন—যা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বজায় রাখতে গিয়ে সরকার ইচ্ছাকৃতভাবেই সীমারেখা অতিক্রম করেনি।
অর্থনৈতিক খাতে এই সরকারের অর্জন তুলনামূলকভাবে বেশি আলোচিত। সরকার দাবি করছে, পূর্ববর্তী সময়ে লুটপাট হওয়া অন্তত আটটি ব্যাংককে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বিমান এই সময়কালে ইতিহাসের সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করেছে। একইভাবে চট্টগ্রাম বন্দরও সর্বোচ্চ লাভের রেকর্ড গড়েছে।
এছাড়া দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে প্রথমবারের মতো আর্থিক লাভ নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনরুদ্ধার এবং বড় বড় প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ের দাবি করছে সরকার।
পরিবেশ সংরক্ষণ ও দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ নিতে গিয়ে একাধিকবার সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিরোধের মুখে পড়ে সরকার। পলিথিন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ সংরক্ষণ কিংবা বন্দর ব্যবস্থাপনায় সংস্কার—প্রতিটি উদ্যোগেই আন্দোলন ও চাপের সম্মুখীন হতে হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সরকারের অবস্থানও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলায় আগের তুলনায় বেশি দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ—এমনটাই মনে করছেন পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষকরা। সরকারের সমর্থকদের দাবি, এই সময়ে দেশের কূটনৈতিক মর্যাদা ও আত্মসম্মান নতুন করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি গণ-অভ্যুত্থানের পর যে মাত্রার সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভাঙন সাধারণত দেখা যায়, বাংলাদেশ সেই তুলনায় অনেকটাই স্থিতিশীল ছিল। তবে জনগণের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি, যা স্বল্প সময়ের মধ্যে পূরণ করা বাস্তবসম্মত ছিল না বলেও মত তাদের।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়ের প্রাক্কালে দেশজুড়ে তাই মিশ্র প্রতিক্রিয়া—একদিকে ব্যর্থতার অভিযোগ, অন্যদিকে নজিরবিহীন কিছু অর্জনের স্বীকৃতি। ইতিহাস শেষ পর্যন্ত এই সরকারকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের গতিপথের ওপরই।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।