
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের এক জামায়াতে ইসলামীর কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার মাগরিবের নামাজের পর কুঞ্জেরহাট যাওয়ার পথে মিঝির বাজার এলাকায় অটোরিকশা থেকে নামিয়ে তাকে রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয় বলে অভিযোগ। বর্তমানে তিনি বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
আহত মো. ইসমাইল কাচিয়া ইসলামি দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আখতারুজ্জামানের বড় ছেলে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে তিনি ঢাকা থেকে বাড়ি এসেছিলেন।
স্বজন ও স্থানীয় জামায়াত নেতাদের দাবি, ভোলা–২ (দৌলতখান–বোরহানউদ্দিন) আসনের বিএনপি প্রার্থী মো. হাফিজ ইব্রাহিমের লোকজন এ নিয়ে তৃতীয় দফায় ইসমাইলের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাদের অভিযোগ, গত বুধবার রাতে তাকে বাড়ির উঠানে ফেলে মারধর করা হয়। এ সময় ঘরে ঢুকে ভাঙচুর, ড্রয়ার ভেঙে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট এবং পরিবারের নারী সদস্যদের লাঞ্ছিত করা হয়।
পরদিন সকালে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পথে আবারও হামলার শিকার হন ইসমাইল। এরপরও তিনি কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন বলে দাবি করা হয়েছে। তার ফুফাতো বোন, যিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নারী এজেন্ট ছিলেন, তাকেও হুমকি ও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মাকসুদুর রহমান বলেন, “হাসপাতালে গিয়ে দেখেছি, রড দিয়ে পিটিয়ে ইসমাইলের শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে। এক্স–রে করা হয়েছে, রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি। ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য তাকে তিন দফা মারধর করা হয়েছে।”
তবে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার আলম খান বলেন, “ঘটনার কথা শুনেছি, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”
বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন জানান, ঘটনাটি তার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ভোলা-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী ফজলুল করিম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৭০৩ ভোট।
জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হাফিজ ইব্রাহিম শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নির্বাচন–পরবর্তী সময়ে কেউ যেন সংঘাতে জড়ায় না এবং কোনো অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।