
Desk Report || Katha24
অন্তর্বর্তী সরকার ভেঙে, নতুন অধ্যায় শুরু
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় পরিবর্তন। অন্তর্বর্তী সরকারের অবসান ঘটিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা তারেক রহমান-কে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এ নিয়োগ প্রদান করেন। একইসঙ্গে নতুন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে গেছে বলে গণ্য হবে।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান
মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে বঙ্গভবনে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান তারেক রহমান-কে। শপথ শেষে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে করমর্দনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। উপস্থিত অতিথিরা করতালির মাধ্যমে নতুন প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।
পরে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেন এবং শপথপত্রে স্বাক্ষর করেন।
মন্ত্রিসভা গঠন
ত্রয়োদশ সংসদের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন—
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর,
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী,
সালাহউদ্দিন আহমদ,
হাফিজ উদ্দিন আহমেদ,
আবদুল আওয়াল মিন্টু,
কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ,
মিজানুর রহমান মিনু,
আ ন ম এহসানুল হক মিলন,
শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি,
জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি-সহ আরও অনেকে।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও একাধিক নেতাকে শপথ পড়ানো হয়।
নির্বাচনের প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয়। পরদিন ২৯৭ আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফল উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় গেজেট আকারে প্রকাশ স্থগিত রয়েছে।
ঘোষিত ফলাফলে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পায়। স্থগিত থাকা দুই আসনেও তাদের প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। শরিক দলগুলো পায় তিনটি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়ী হয় এবং তাদের নেতৃত্বাধীন জোটের অন্য শরিকরা পায় নয়টি আসন।
নতুন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ
অন্তর্বর্তী সরকারের পর নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করল দেশ। অর্থনীতি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ও নির্বাচন-পরবর্তী সমন্বয়—এসব ইস্যুতে নতুন সরকারের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে জনসাধারণ।
দেশের রাজনৈতিক গতিপথ এখন নির্ভর করছে নতুন সরকারের সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন সক্ষমতার ওপর।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।