
ফিচার প্রতিবেদন, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: উত্তরার দিয়াবাড়িতে অবস্থিত 'বউ বাজার' নাম শুনে প্রথমবার আসা যে কেউ চমকে যেতে পারেন। তবে এটি কোনো কনের বাজার নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের এক প্রাণবন্ত গ্রামীণ হাট। উত্তরা সেন্টার মেট্রো স্টেশন থেকে মাত্র দুই মিনিটের হাঁটা দূরত্বে আধুনিক বহুতল ভবনের মাঝে এই বাজারটি এখনো ধরে রেখেছে আদি বাংলার চিরায়ত লোকজ রূপ। খোলা আকাশের নিচে এখানে প্রতিদিন বসে টাটকা শাক-সবজি, মাছ ও দেশি হাঁস-মুরগির বিশাল সমাহার।
নারী বিক্রেতাদের প্রাধান্য: এই বাজারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো নারী বিক্রেতাদের উপস্থিতি। স্থানীয় অনেক গৃহিণী তাদের নিজেদের আঙিনায় বা জমিতে চাষ করা কেমিক্যালমুক্ত সবজি নিয়ে এখানে বসেন। রহিমা বেগম নামের এক বিক্রেতা বলেন, "পরিবার সামলে এখানে বাড়তি আয়ের সুযোগ আমাদের স্বাবলম্বী করেছে।" মূলত বিশ্বাস এবং টাটকা পণ্যের টানেই উত্তরা ছাপিয়ে মিরপুর বা মতিঝিল থেকেও ক্রেতারা মেট্রোতে চড়ে এখানে ছুটে আসেন।
মেট্রোরেলে বদলে যাওয়া দিয়াবাড়ি: একসময় দিয়াবাড়ি অনেকটা নির্জন এলাকা থাকলেও মেট্রোরেল সংযোগ এই চিত্র বদলে দিয়েছে। উত্তরা সেন্টার স্টেশন চালু হওয়ার পর মতিঝিল বা ফার্মগেট থেকে এখন অনায়াসেই মানুষ এখানে আসতে পারছেন। দর্শনার্থী নাসির উদ্দিন বলেন, "আগে উত্তরা আসাটা ছিল বড় এক সিদ্ধান্ত, কিন্তু মেট্রোর কারণে এখন অফিসের পর বা ছুটির দিনে আমরা অনায়াসেই পরিবার নিয়ে চলে আসি।"
বিকেলের বিনোদন ও ফুড কোর্ট: বেলা গড়ার সাথে সাথে বউ বাজারের চেহারা বদলে যায়। কাঁচাবাজারের হাঁকডাক কমে গিয়ে সেখানে প্রাধান্য পায় বিশাল এক ফুড কোর্ট। হাঁস ভুনা, চিকেন চাপ থেকে শুরু করে কাঁকড়া, স্কুইড বা লবস্টারের মতো সি-ফুড এখন এখানে পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। সাথে আছে নাগরদোলা, নৌকা ভ্রমণ ও কায়াকিং-এর সুযোগ। ঢাকা শহরে যখন খোলা জায়গার আকাল, তখন দিয়াবাড়ির এই বউ বাজার ও সংলগ্ন এলাকাটি নগরবাসীর জন্য এক প্রশান্তির নিশ্বাস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।