
ওয়াশিংটন ডেস্ক, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: সুপ্রিম কোর্টের প্রতিকূল রায়ের পর মার্কিন বাণিজ্য নীতি পুনর্গঠনে মরিয়া হয়ে উঠেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত মঙ্গলবার থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ নতুন শুল্ক কার্যকর হয়েছে, যা আগামী ১৫০ দিন পর্যন্ত বহাল থাকবে। ট্রাম্পের বাণিজ্য দূত জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, এই হার পরবর্তীতে ১৫ শতাংশ বা তার বেশিও হতে পারে।
মিত্রদের অবস্থান: ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম এবং অটোমোবাইল সেক্টরে আগের বিশেষ চুক্তিগুলো আপাতত এই শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে। তবে ব্রিটেনসহ অনেক অংশীদার দেশ, যারা আগে কম শুল্ক দিত, তারা এখন এই সমহারে ১৫ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়বে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া তাদের গাড়ি রপ্তানিতে শুল্ক সুবিধা (২৫% থেকে কমিয়ে ১৫%) হারানোর ভয়ে আপাতত কোনো পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত রয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: ট্রাম্প প্রশাসন জাতীয় নিরাপত্তা (সেকশন ২৩২) এবং অন্যায্য বাণিজ্য প্রথার (সেকশন ৩০১) দোহাই দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী শুল্ক আরোপের পথে হাঁটছে। বিশেষ করে ব্যাটারি, কাস্ট আয়রন, প্লাস্টিক পাইপিং এবং টেলিকম যন্ত্রপাতির ওপর বড় ধরনের তদন্ত শুরু হতে পারে। ডরসি অ্যান্ড হুইটনি-র আইনজীবী ডেভ টাউনসেন্ডের মতে, বছরের শেষ নাগাদ ট্রাম্প প্রায় সব দেশের ওপরই ব্যাপক শুল্ক চাপিয়ে দিতে পারেন।
রিফান্ড বা অর্থ ফেরত নিয়ে জটিলতা: সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর অনেক আমদানিকারক ইতিমধ্যে পরিশোধ করা শুল্কের অর্থ ফেরত চাইছেন। তবে অক্সফোর্ড ইকোনমিক্স-এর বার্নার্ড ইয়ারোসের মতে, এই অর্থ ফেরত পেলেও সাধারণ ভোক্তারা তার সুবিধা পাবেন না, কারণ পণ্যের দাম আগেই বেড়ে গেছে। এছাড়া আমদানিকারক ছাড়া যারা তৃতীয় পক্ষ হিসেবে পণ্য কিনেছেন, তাদের অর্থ ফেরত পেতে দীর্ঘ আইনি লড়াই করতে হতে পারে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।