
জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের আয়োজিত ‘অটুট বন্ধনে জবিয়ানদের ইফতার’ অনুষ্ঠানের মঞ্চে ধারণ করা একটি কাওয়ালি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ভিডিওতে কয়েকজন পুরুষ শিক্ষার্থীর সঙ্গে এক নারী শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ এবং কাওয়ালির সুরে উপস্থাপিত ভঙ্গিমাকে অনেকে ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বা ব্যঙ্গাত্মক হিসেবে দেখছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)-এর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক তাকরিম আহমেদ।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের ইফতার কর্মসূচি শেষে ওই ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ‘অটুট কাওয়ালি’ শিরোনামে ভিডিওটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, ছয়জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে একজন ছাত্রী কাওয়ালীর সুরে অংশ নিচ্ছেন। পরবর্তীতে ভিডিওটি 'খাবার না পাওয়া জবিয়ানদের সান্ত্বনার কাওয়ালি' শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক পরিবেশনা ছিল না, বরং ইফতার অনুষ্ঠান শেষে ব্যক্তিগতভাবে মজার ছলে ভিডিওটি তৈরি করা হয়। ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইফতার কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক পর্ব শেষে মঞ্চে কোনো সাংস্কৃতিক আয়োজন ছিল না।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, ধর্মীয় আবহ ও রমজানের ইফতার আয়োজনের ব্যানারের সামনে এ ধরনের ভিডিও ধারণ সংযত হওয়া উচিত ছিল। তাদের মতে, ব্যক্তিগতভাবে কেউ গান বা কাওয়ালি করতেই পারেন, তবে সংগঠনের ব্যানার ব্যবহার করায় বিষয়টি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শিবিরকে বিতর্কিত করতেই পরিকল্পিতভাবে এসব করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে।
ওয়াইসুল নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, 'মাঝখানে একটা মেয়ে কে নিয়ে ইফতার মাহফিল। এরকম রংতামাশা শিবিরের অনুমতি ছাড়া অসম্ভব। ভাই এরকম হারাম করতে চাইলে আলাদা করে প্রোগ্রাম করো। ইফতার মাহফিল এর নামে এরকম শয়তানি বন্ধ করো।'
জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, এগুলো কি ধরনের ফাজলামি আমাদের বোধগম্য না। শিবিরের রমজানের ইফতার নিয়ে একটা আয়োজনের ব্যানারের সামনে বসে আপনারা ছেলে-মেয়ে একসাথে ভিডিও করে গান লাগিয়ে প্রচার করছেন।
এবিষয়ে ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ও জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, ইফতার অনুষ্ঠান শেষে ব্যক্তিগতভাবে কয়েকজন শিক্ষার্থী কাওয়ালি পরিবেশন করেন। এর সঙ্গে সংগঠনের কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা ছিল না। বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমালোচনার মুখে ভিডিওটি সরিয়ে নিয়ে জকসুর সংস্কৃতি সম্পাদক তাকরিম আহমেদ দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “ক্যাম্পাসে আলোকসজ্জা ছিল, অনেকে ছবি-ভিডিও করছিল। পরিবেশটা কাওয়ালির মতো লাগায় বন্ধুদের সঙ্গে মজার ছলে একটি ভিডিও করি। কাউকে বিব্রত করা বা বদনাম করার উদ্দেশ্য ছিল না। তবুও কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি অনিচ্ছাকৃত এবং কাউকে হেয় করার কোনো ইচ্ছা তার ছিল না। যারা এতে কষ্ট পেয়েছেন, তাদের কাছে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (1)
Faaaaa