
ডেস্ক রিপোর্ট। Katha24.com
রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি
থার্টি ফার্স্ট নাইটের মধ্যরাতে রাজবাড়ী শহরে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনায় গু/লিবি/দ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হয়েছে এক শিশু। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর কলেজপাড়া এলাকায় (পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড) এ ঘটনা ঘটে।
আহত শিশুর নাম সিফাত (১২)। সে বিনোদপুর এলাকার মোঃ শফিকুল ইসলামের জমজ দুই ছেলের একজন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে সংঘ/র্ষ ও গুলি বিনিময়ের সময় ছোড়া একটি গুলি এসে শিশুটির পেটে লাগে।
গুলিটি সিফাতের পেটের উপরের অংশে, বক্ষপিঞ্জরের ঠিক নিচে ঢুকে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করে। এতে শিশুটির প্রচুর র/ক্তক্ষরণ হয় এবং সে ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে তার মা আশপাশের মানুষের সহায়তায় সিফাতকে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোঃ নুরুল আজম শিশুটিকে দ্রুত পরীক্ষা করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. রাজীব দে সরকারকে ডেকে আনেন। সৌভাগ্যক্রমে, সিনিয়র চিকিৎসক ডা. রাজীব দে সরকার তখন হাসপাতালেই উপস্থিত ছিলেন।
ডা. রাজীব শিশুটিকে পরীক্ষা করে জানান, এটি একটি গানশট ইনজুরড অ্যাবডোমেন এবং গুলির আঘাতে খাদ্যনালীর অংশবিশেষে পারফোরেশন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি শিশুটি হাইপোভলিউমিক শকে চলে গেছে, যা কিছুক্ষণ স্থায়ী হলে প্রাণঘাতী হতে পারত। তিনি দ্রুত চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেন।
দীর্ঘ সময় ধরে দুই চিকিৎসকের আপ্রাণ চেষ্টা ও দক্ষ চিকিৎসায় শিশুটির জ্ঞান ফেরে। রিসাসিটেশনের মাধ্যমে শিশুটিকে সংকটমুক্ত করা হয় এবং ভাইটাল সাইনস স্থিতিশীল করা সম্ভব হয়। এ সময় জরুরি বিভাগের নার্স ও কর্মচারীরাও একযোগে সেবাদানে অংশ নেন। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিশুটি হাইপোভলিউমিক শক থেকে ফিরে আসে।
শিশুটির শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
শিশুর মা জানান,
“বালুমহল নিয়ে সংঘর্ষের জেরে আমাদের বাড়ির আশপাশে ভাঙচুর ও গুলি বিনিময় চলছিল। এক পর্যায়ে আমার ছেলের পেটে গুলি লাগে। সদর হাসপাতালের ডাক্তাররা সময়মতো চিকিৎসা না দিলে হয়তো আজ আমার বাচ্চাকে ফিরে পেতাম না।”
শিশুর বাবা বলেন,
“আমার ছেলের চিকিৎসা সম্পন্ন হওয়ার পর চিকিৎসকদের দেওয়া মেডিকেল সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে আমরা আইনি সহায়তা গ্রহণ করব।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।