
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১ মার্চ ২০২৬: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর মৃত্যু এবং এর জবাবে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য এখন এক ভয়াবহ অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছে। এই নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে বিশ্বনেতারা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন।
ইরানের হুঁশিয়ারি: ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC) খামেনেইর ‘হত্যাকারীদের’ কঠোর ও নির্ণায়ক শাস্তির শপথ নিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের নির্বাসিত সাবেক শাহ-র ছেলে রেজা পাহলভি একে ‘চূড়ান্ত বিজয়ের’ নিকটবর্তী সময় বলে অভিহিত করেছেন।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা: জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এই সংঘাত আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে বিপন্ন করছে। আইএইএ (IAEA) জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে তবে এখন পর্যন্ত কোনো ‘তেজস্ক্রিয় প্রভাবের’ প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ইউরোপ ও পশ্চিমা বিশ্বের অবস্থান: ইউরোপীয় ইউনিয়ন আরব আমিরাতে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছে। ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি ইরানের পাল্টা হামলার নিন্দা করলেও স্পষ্ট করেছে যে তারা মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযানে অংশ নেয়নি। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, খামেনেইর মৃত্যুতে কেউ ‘শোক পালন করবে না’।
রাশিয়া ও চীনের উদ্বেগ: রাশিয়া সতর্ক করেছে যে এই হামলা অঞ্চলটিকে একটি ‘তেজস্ক্রিয় বিপর্যয়ের’ দিকে ঠেলে দিচ্ছে। চীন অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা বন্ধ এবং ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া: তুরস্ক উভয় পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানালেও কাতার, মিশর ও জর্ডান তাদের ভূখণ্ডে বা মিত্রদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। লেবানন জানিয়েছে, তারা এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে চায় না।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।