
রোববার (১ মার্চ) পাবনা জেলা পুলিশ এর ডিবি শাখা ও ঈশ্বরদী থানা যৌথ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শরিফুলকে ঈশ্বরদীর কালিকাপুর গ্রামে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে।
নিহতরা হলেন সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও তার নাতনী জামিলা আক্তার সেতু (১৫)। সেতু ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জয়নাল খানের মেয়ে এবং স্থানীয় কালিকাপুর দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে দাদী-নাতনী নিজেদের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে বাড়ির গেটের সামনে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ এবং পাশের একটি গমখেত থেকে সেতুর বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
বিকেলে পাবনা জেলা পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ তার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত করে শরিফুলের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হওয়া যায়। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছেন।
পুলিশের ভাষ্যমতে, যাতায়াতের সুবাদে সেতুর ওপর শরিফুলের কুদৃষ্টি ছিল। ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত প্রায় ১১টার দিকে তিনি কৌশলে বাড়িতে প্রবেশ করেন। বিষয়টি টের পেয়ে সুফিয়া খাতুন তাকে চলে যেতে বললে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে কাঠের বাটাম দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই সুফিয়া খাতুন মারা যান।
এরপর তিনি ঘরে ঢুকে সেতুকে জাপটে ধরেন। সেতুর চিৎকারে তিনি হাতুড়ি ও বাঁশের বাটাম দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে অচেতন করে ফেলেন। পরে অচেতন অবস্থায় সেতুকে টেনেহিঁচড়ে পাশের গমখেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন এবং ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি হাতুড়ি, একটি বাঁশের কাঠি, একটি কাঠের বাটাম ও অভিযুক্তের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করেছে।
এ ঘটনায় নিহত সেতুর ফুফু মোসাঃ মর্জিনা খাতুন বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তার শরিফুলকে রোববার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।