
ফিচার ডেস্ক, ৬ মার্চ ২০২৬: সকালের চায়ের কাপে সংবাদপত্র কিংবা নির্দিষ্ট সময়ে সংবাদের সামনে বসার দিন কি তবে শেষ? ২০২৫ সালের ডিজিটাল নিউজ রিপোর্ট বলছে, ৩৫ বছরের কম বয়সীদের প্রায় অর্ধেকই এখন সংবাদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ও ভিডিও নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল। সংবাদ এখন আর আলাদা কোনো গন্তব্য নয়, বরং এটি বিনোদন ফিডের মধ্যে মিশে থাকা একটি সংক্ষিপ্ত খণ্ডাংশ মাত্র।
অ্যালগরিদমের প্রভাব: সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম ডিজাইন করা হয় ব্যবহারকারীকে ‘হুক’ করে রাখার জন্য, তাকে কোনো জটিল বিষয় বোঝানোর জন্য নয়। এর ফলে সংবাদের গভীরতা ও পরিপ্রেক্ষিতের (Context) চেয়ে ‘শেয়ারযোগ্যতা’ এবং ‘ইমিডিয়েসি’ বেশি গুরুত্ব পায়।
বিভ্রান্তির উদাহরণ: সম্প্রতি একটি শিরোনাম ছড়িয়ে পড়েছিল যে, দ্বিতীয় বিয়ের জন্য নারীর সম্মতির প্রয়োজন নেই বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই ‘বাইট-সাইজ’ তথ্যটি জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করলেও বাস্তব ছিল ভিন্ন। আদালত আসলে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৬ নম্বর ধারার একটি রিট আবেদন খারিজ করেছিলেন মাত্র। কিন্তু খণ্ডিত সংবাদ শুধু আবেগকেই উসকে দিয়েছে, আইনি জটিলতা বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছে।
গণতন্ত্রের ঝুঁকি: একটি কার্যকর গণতন্ত্র নির্ভর করে সচেতন জনগণের ওপর। যখন তথ্য কেবল আবেগীয় ফ্রেমের মাধ্যমে পৌঁছায় এবং ফ্যাক্ট বা তথ্যের চেয়ে ইমপ্রেশন বড় হয়ে ওঠে, তখন নাগরিকরা সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হারায়।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।