
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ | ১৮ মার্চ ২০২৬
গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। দাম্পত্য কলহের জেরে বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী দীপা দাস আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণ:
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে গোপালগঞ্জ শহরের ঘোনাপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সহপাঠীদের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দীপা তার স্বামীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে পাশের ঘরে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দেন। পরে স্বামী ও বাড়ির দারোয়ান দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মানসিক চাপ ও পারিবারিক সংকট:
নিহত দীপা দাসের বাড়ি মেহেরপুর জেলায়। পড়াশোনার সুবাদে তিনি স্বামীর সঙ্গে গোপালগঞ্জে বসবাস করতেন। সহপাঠীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপের কারণে তিনি বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। বাংলা বিভাগের একজন মেধাবী ও অমায়িক স্বভাবের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত দীপার এমন অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তার সহপাঠীরা।
প্রশাসন ও পুলিশের বক্তব্য:
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহকারী অধ্যাপক ড. আহসান সৌরভ জানান, বিষয়টি জানার পরপরই তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে আছে এবং কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বর্তমানে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, বিশেষ করে বাংলা বিভাগে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।