
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি। Katha24
সলেমানপুর গ্রামের প্রতিবন্ধী ভ্যানচালক নজির উদ্দিন (৩৫) এই পরিস্থিতির শিকার। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও তিনি ভিক্ষাবৃত্তি বেছে নেননি; বরং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের পরিবারকে সচল রাখার চেষ্টা করছেন। স্ত্রী এবং এক সন্তান নিয়ে গঠিত তার ছোট্ট পরিবারটি ঈদের আগে ভাতার টাকার উপর নির্ভর করে কিছুটা স্বস্তির আশায় ছিল। কিন্তু ঈদের প্রাক্কালে সেই টাকা না পাওয়ায় তার প্রত্যাশা এখন হতাশায় পরিণত হয়েছে।
উপজেলা সমাজসেবা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, কোটচাঁদপুরে ভাতাভোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৫৫৫ জন। এর মধ্যে ৬ হাজার ২০৬ জন বয়স্ক, ২ হাজার ৯৭০ জন বিধবা এবং ৪ হাজার ৩৭৯ জন প্রতিবন্ধী রয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, ঈদের আগে তিন মাসের ভাতা একত্রে প্রদানের কথা থাকলেও, ৩ মার্চ সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরও উপকারভোগীদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে টাকা এখনও পৌঁছায়নি।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বশির আহম্মেদ জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকল তথ্য সাবমিট করা হয়েছিল। কিন্তু কেন এখনও টাকা ছাড় হয়নি, তা স্পষ্ট নয়। এ কারণে ভাতাভোগীদের পাশাপাশি তারাও এক চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এনামুল হাসান উল্লেখ করেন, স্থানীয়ভাবে সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে টাকা ছাড় না হওয়ায় এই সমস্যার উদ্ভব হয়েছে।
ঈদের আগে এই ভাতা অনেকের জন্য আশার প্রতীক হলেও, ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে অসহায় মানুষের ঈদের আনন্দ যেন দীর্ঘশ্বাসের মধ্যে আটকে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।