
গত পাঁচ মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চারটি রায় ঘোষণা করেছে। চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত এই অপরাধের প্রেক্ষাপটে, এই রায়গুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আলোচিত রায়গুলোর মাধ্যমে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে, যা দেশের বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্দেশ করে।
প্রথম রায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ হাসিনা এবং কামালের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে। ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর, চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করার পর, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে এই শাস্তি দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় রায় অনুযায়ী, তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় সাবেক ডিএমপির কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে শাস্তি প্রদান করা হয়, যেখানে অন্য পাঁচ পুলিশ সদস্যকেও সাজা দেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানের পাশাপাশি আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ হয়েছে। তারা হলেন সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম।
লাশ পোড়ানোর মামলায় তৃতীয় রায় অনুযায়ী, সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আশুলিয়ায় ছয় জনের লাশ পোড়ানোর ঘটনায় এই রায় ঘোষণা করা হয়, যেখানে আরও সাত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
চতুর্থ রায়ে, আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করে এবং মামলার অন্যান্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করে।
২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আবু সাঈদ হত্যা মামলায় রায় ঘোষণা করে। সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগের সদস্যদের বিরুদ্ধে এই রায়ে কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে, যা দেশের সুশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই, আন্দোলনের সময় আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে, যা গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়।
আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে গুম-খুনসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার বর্তমানে দুইটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান। এই বিচার প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।