
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখে, তাহলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধ করে দেওয়ার কথা চিন্তা করা হবে। এটি শনিবার প্রকাশিত হয়, যখন লেবাননে যুদ্ধবিরতির পর এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি আবার চালু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এএফপি। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ফলে শুক্রবার বিশ্ব শেয়ারবাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে এবং ওয়াশিংটনে আশার সঞ্চার হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, একটি শান্তি চুক্তি ‘খুব কাছাকাছি’ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে।
এ দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইউরেনিয়ামের মজুত কোথাও হস্তান্তর করা হবে না।
ইরান আরও সতর্ক করে বলেছে, যদি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ তাদের বন্দর থেকে আসা জাহাজগুলোকে বাধা দেয়, তাহলে আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা হতে পারে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন, ‘অবরোধ চলতে থাকলে হরমুজ প্রণালি খোলা থাকবে না।’ তিনি জানান, এই প্রণালিতে চলাচলের জন্য ইরানের অনুমতি প্রয়োজন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি খোলা বা বন্ধের সিদ্ধান্ত বাস্তব পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী জানে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘যাকে তারা নৌ অবরোধ বলছে, তা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন। এর যথাযথ জবাব ইরান দেবে।’
এই উত্তেজনা এমন সময়ে বাড়ছে, যখন ট্রাম্প ‘চমৎকার ও অসাধারণ’ এক দিনের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে পাকিস্তান ও উপসাগরীয় মিত্রদের মধ্যস্থতার প্রশংসা করেন এবং ন্যাটোকে প্রণালির নিরাপত্তায় ‘দূরে থাকতে’ বলেন।
এএফপিকে দেওয়া ফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা সবার জন্য ভালো হবে। আমরা একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি আছি।’
তিনি আরও দাবি করেন, তেহরানের সঙ্গে বর্তমানে কোনও অমীমাংসিত বিষয় নেই।
সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির আশায় তেলের দাম ইতোমধ্যে কমতে শুরু করেছে এবং শুক্রবার তা আরও নিম্নমুখী হয়। শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়।
যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার রাশিয়ার তেল বিক্রির ওপর নতুন করে একটি ছাড় দিয়েছে, যা বিশ্ববাজারে সরবরাহ বাড়াতে এবং তেলের দাম কমাতে সহায়ক হতে পারে।
লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর শান্তি উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির সুযোগে বাস্তুচ্যুত মানুষ দক্ষিণ বৈরুত ও দক্ষিণাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ফিরতে শুরু করেছে।
৩৭ বছর বয়সী আমানি আত্রাশ বলেন, ‘আমাদের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এটি গর্ব ও বিজয়ের অনুভূতি। আশা করছি, এই যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হবে।’
ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে নতুন করে হামলা চালাতে নিষেধ করেছে এবং লেবাননের সঙ্গে কাজ করে পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা করবে।
মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইসরাইলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করলে লেবাননে সংঘর্ষ শুরু হয়।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা যুদ্ধকালীন কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করছে।
তবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান এখনো শেষ হয়নি।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা এখনো আমাদের লক্ষ্য অর্জন করিনি।’ হিজবুল্লাহকে ধ্বংস ও নিরস্ত্রীকরণই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
ইসরাইল সতর্ক করে বলেছে, নির্দিষ্ট এলাকা থেকে হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা সরে না গেলে আবার সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে।
অন্যদিকে, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেছেন, তার দেশকে আর কোনো বাইরের শক্তির সংঘাতের ক্ষেত্র হতে দেওয়া হবে না।
এদিকে, হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরাইলের যেকোনো লঙ্ঘনের জবাব দিতে তারা প্রস্তুত রয়েছে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।