
গত সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় বাসিন্দারা নদের পাড়ে তীব্র দুর্গন্ধ পেয়েছিলেন। কাছাকাছি গিয়ে তারা লক্ষ্য করেন, একটি কুকুর মাটির নিচে চাপা থাকা একটি বস্তার অংশ কামড়ে ধরে টানছে এবং সেখান থেকে নারীর চুল বের হয়ে আসছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দী অবস্থায় এক নারী ও একটি নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে। পরিচয় না মেলার কারণে তাদের মির্জাপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, ওই নারী সম্ভবত প্রায় সাত থেকে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। মৃত্যুর আগে তাকে চরম নির্যাতনের শিকার হতে হতে পারে। পুলিশের ধারণা, নির্যাতনের কারণে মৃত্যুর সময় বা তার পূর্বে নবজাতকটির প্রসব ঘটে। এরপর অপরাধীরা ঘটনা ধামাচাপা দিতে মা ও শিশুকে এক বস্তায় ভরে নদের পাড়ে মাটিচাপা দিয়ে পালিয়ে যায়।
আজ রোববার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাবেদ পারভেজ জানান:
লাশ দুটি উদ্ধারের সময় অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল।
নারীর গলায় ওড়না জাতীয় কাপড় প্যাঁচানো পাওয়া গেছে, যা থেকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠছে।
ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজে নমুনা পাঠানো হয়েছে এবং ভিসেরা রিপোর্ট সংগ্রহ করা হয়েছে।
মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাসেল আহমেদ জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে ডিএনএ প্রোফাইলিং ও নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) পর্যালোচনার মাধ্যমে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তথ্যসূত্র: মির্জাপুর থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।