
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরাতে পাকিস্তান তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। দীর্ঘ আলোচনার স্থবিরতার মাঝেও যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধিকে একটি ইতিবাচক অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক পোস্টে শাহবাজ শরিফ বলেন:
"আমাদের ব্যাপক ও নিরলস প্রচেষ্টার কারণেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব হয়েছে, যা এখনো কার্যকর রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এখনো অব্যাহত আছে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি রাখা হবে না।"
উল্লেখ্য, পাকিস্তান দীর্ঘ সময় ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির ইসলামাবাদ সফরের মধ্য দিয়ে এই আলোচনা নতুন মাত্রা পায়।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটনের সুর এখনো বেশ কড়া। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তাদের প্রতিনিধিরা ইরানিদের সাথে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে মার্কিন প্রশাসন দাবি করেছে, যুদ্ধের প্রভাবে ইরান তাদের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব ও পরিস্থিতি সামাল দিতে বর্তমানে হিমশিম খাচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান:
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেবল এমন একটি চুক্তিতে সই করবেন যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাবে।
ইরানের সাথে কোনো সমঝোতা হতে হলে তা অবশ্যই ওয়াশিংটনের শর্তাধীন হতে হবে।
হোয়াইট হাউসের এই বিবৃতির আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানকে এক প্রকার প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছেন। তিনি তেহরানকে ‘বুদ্ধিমত্তা দেখানোর’ পরামর্শ দিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আলোচনার টেবিল থেকে সরে গেলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
হরমুজ প্রণালি: তেলের সরবরাহ নিয়ে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হরমুজ প্রণালি সচল করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
নিষেধাজ্ঞা: মার্কিন সরকার সম্প্রতি ইরানের ৩৫টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
লেবানন সংকট: যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বাড়ছে, যা শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১ মে’র সময়সীমার আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো টেকসই চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে শাহবাজ শরিফের এই ঘোষণা বিশ্বরাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।