
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | Katha24.com
চট্টগ্রামে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতিতে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজে যোগ দেননি বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মচারী ও বেসরকারি শ্রমিকরা। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই কর্মবিরতি চলবে।
কর্মবিরতির ফলে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ জিসিবি টার্মিনাল, চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)-তে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কার্যক্রম একপ্রকার বন্ধ হয়ে গেছে। এতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
শ্রমিকদের প্রতিবাদ
শ্রমিক নেতারা বলছেন, এনসিটি বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়া হলে দেশীয় শ্রমিকদের চাকরি ও বন্দরের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাদের দাবি, জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা কোনোভাবেই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়।
বন্দর কর্তৃপক্ষের কড়া অবস্থান
তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে শ্রমিকদের আন্দোলনকে কঠোর ভাষায় নাকচ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,
সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন, সভা-মিছিল কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়া আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী দ্রুত বিচার আইন ২০০২, সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা-১৯৭৯ এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা-১৯৯১ অনুযায়ী সুস্পষ্ট পেশাগত অসদাচরণ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করছে, যা সরাসরি রাষ্ট্রীয় স্বার্থবিরোধী।
উদ্বেগে বাণিজ্য মহল
চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ পরিচালনা করে। ফলে কর্মবিরতির দীর্ঘায়ন হলে দেশের বাণিজ্য, শিল্পখাত এবং রপ্তানি কার্যক্রমে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।