
কথা২৪ ডেস্ক:
দায়িত্ব ছাড়ার প্রাক্কালে বিদায়ী ভাষণে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ১৯ বিলিয়ন ডলার; বিদায়ের সময় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ বিলিয়ন ডলারে। পাশাপাশি দেশে ছয় মাসের খাদ্য মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তার ভাষ্যমতে, দেড় বছরে রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে ১৪ বিলিয়ন ডলার—যা টাকার অঙ্কে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার সমান। তবে আগের সরকারের সময় নেওয়া বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বড় অঙ্কের ভর্তুকি প্রদানের কারণে আরও বেশি রিজার্ভ বাড়ানো সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান।
ড. ইউনূস বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় অর্থনীতি ছিল দুর্বল ও চাপের মুখে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্দোলন ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের পরিকল্পনা ছিল তার অগ্রাধিকার, কিন্তু অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা সেই উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
তিনি আরও জানান, শুরুতে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নিতে অনাগ্রহী থাকলেও শিক্ষার্থীদের অনুরোধে এক বছরের শর্তে দায়িত্ব গ্রহণ করেন—যেখানে কাজের স্বাধীনতা ও জনগণের সহযোগিতা ছিল প্রধান শর্ত।
বিদায়ী বক্তব্যে ড. ইউনূস কারও বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ না তুলে নিজের সীমাবদ্ধতার দায় স্বীকার করেন এবং জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তার এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সমর্থকদের দাবি, কঠিন সময়ে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখাই ছিল বড় সাফল্য; সমালোচকদের প্রশ্ন, কাঙ্ক্ষিত কাঠামোগত সংস্কার কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে।
দায়িত্ব হস্তান্তরের এই মুহূর্তে দেশের অর্থনীতি কোন পথে এগোবে—সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।