
মো: জিহাদ সরকার
রিপোর্টার, কথা২৪
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের প্রণীত নতুন দণ্ডবিধি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারিবারিক শারীরিক শাস্তির ক্ষেত্রে আইনি দায় নির্ধারণে নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত প্রায় ৯০ পৃষ্ঠার এই দণ্ডবিধিতে সই করেন তালেবান সরকারের সর্বোচ্চ নেতা Hibatullah Akhundzada। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শারীরিক শাস্তির ফলে যদি ‘হাড় ভাঙা’ বা স্থায়ী গুরুতর শারীরিক ক্ষতি না ঘটে, তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না—এমন ব্যাখ্যা আইনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বিধান পারিবারিক সহিংসতার বহু ঘটনাকে কার্যত শাস্তির আওতার বাইরে রাখার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছে, এর ফলে নারীদের শারীরিক নিরাপত্তা আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
২০২১ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে Taliban প্রশাসন নারীদের উচ্চশিক্ষা, বিভিন্ন পেশায় কাজ, পার্কে প্রবেশ ও জনসমক্ষে আচরণের ওপর একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। নতুন দণ্ডবিধিকে সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখছেন সমালোচকেরা।
এদিকে United Nations Human Rights Council আইনটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগের বিচারপ্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে পড়তে পারে এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সংকুচিত হতে পারে।
তবে তালেবান প্রশাসনের দাবি, নতুন আইন শরিয়া ও দেশের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের আলোকে প্রণয়ন করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।