
জাতীয় প্রতিবেদক, ঢাকা, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: বুধবার বিকেলে এক আকস্মিক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের চুক্তি বাতিল করেছে সরকার। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন পোশাক শিল্প খাতের ব্যবসায়ী মো. মোস্তাকুর রহমান। এই রদবদল নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরে কর্মকর্তাদের একটি অংশ ক্ষেত্র প্রস্তুত করছিল বলে গুঞ্জন রয়েছে।
অপ্রস্তুত মনসুর ও অসম্মানজনক বিদায়: অপসারণের খবরটি যখন টিভিতে প্রচার হচ্ছিল, তখন ড. মনসুর স্বয়ং বিষয়টি জানতেন না। তিনি সাংবাদিকদের জানান, তাঁকে পদত্যাগ করতে বলা হয়নি বা কোনো আগাম বার্তাও দেওয়া হয়নি। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে ইতিবাচক বৈঠকের মাত্র দুই দিন পর এই সিদ্ধান্ত অনেককেই অবাক করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি চুক্তি বাতিল না করে তাঁকে পদত্যাগের সুযোগ দেওয়া হলে সেটি অধিকতর সম্মানজনক হতো।
মনসুরের ১৮ মাসের অর্জন: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসে ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন সাবেক এই আইএমএফ অর্থনীতিবিদ। তাঁর সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারের নিচে থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। তিনি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে রিজার্ভ থেকে ডলার না দিয়ে বাজার থেকে সংগ্রহ করতে বাধ্য করেছিলেন, যা ডলার বাজারে স্থিতিশীলতা এনেছিল। এছাড়া খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরায় তাঁর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।
ব্যর্থতা ও সমালোচনা: সংস্কারে সফল হলেও ড. মনসুর কিছু ক্ষেত্রে সমালোচিত ছিলেন। বিশেষ করে এক্সিম ব্যাংক ও এসআইবিএল-এর একীভূতকরণ (Merger) প্রক্রিয়া এবং "১০টি ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার পথে"—এমন মন্তব্যের কারণে আমানতকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। এছাড়া ব্যাংকিং আইন সংশোধন ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক বাধার মুখেও পড়েছিলেন তিনি।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।