
পবিত্র মাহে রমজানের আধ্যাত্মিক তাৎপর্যকে ধারণ করে ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্সের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের উদ্যোগে এক অনুপ্রেরণামূলক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
রমজান মুসলিম উম্মাহর জন্য আত্মসংযম, আত্মশুদ্ধি এবং মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। সেই উপলব্ধিকে সামনে রেখে আয়োজিত এই ইফতার মাহফিলে ধর্মীয় আলোচনা, ইসলামের ইতিহাসভিত্তিক উপস্থাপনা এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল এক ধরনের আন্তরিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের আবহ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর বক্তারা রমজানের তাৎপর্য, ইসলামের মানবিক শিক্ষা এবং সমাজে ইতিবাচক মূল্যবোধ গড়ে তোলার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। বক্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে যে রমজান মানুষকে আত্মনিয়ন্ত্রণ, সহমর্মিতা ও নৈতিকতার চর্চায় উদ্বুদ্ধ করে।
এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ এবং বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠানটি এক অর্থবহ মিলনমেলায় পরিণত হয়।
ইফতার মাহফিলে বিভাগের বিভাগীয় প্রধান তার বক্তব্যে বলেন, “পবিত্র রমজান আমাদেরকে ধৈর্য, সংযম এবং মানবিকতার শিক্ষা দেয়। একজন শিক্ষার্থী যখন প্রকৌশল শিক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে, তখন তার চরিত্রের ভিতও শক্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষা কেবল পেশাগত দক্ষতা অর্জনের মাধ্যম নয়, এটি একজন মানুষকে নৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করে।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় একটি জ্ঞানভিত্তিক পরিবার যেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যায়। এ ধরনের আয়োজন আমাদের মাঝে সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ককে আরও গভীর করে। এই মিলনমেলা ভবিষ্যতেও আমাদের মধ্যে ঐক্য ও ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।”
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বটি বিশেষভাবে সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। সেখানে ইসলামের ইতিহাস, রমজানের শিক্ষা এবং ব্যক্তিগত জীবনে নৈতিকতা চর্চার গুরুত্ব নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করা হয় এবং সেগুলোর ব্যাখ্যামূলক উত্তর প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া শেষে উপস্থিত সবাই একসাথে ইফতার গ্রহণ করেন। সম্মিলিত এই মুহূর্তটি পুরো অনুষ্ঠানে এক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ আবহ তৈরি করে।
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, এই ধরনের আয়োজন শুধু ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত করে না, বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার মনোভাবও বৃদ্ধি করে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও সামাজিক বিকাশে সহায়ক এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হয়।
ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্সের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এই ইফতার মাহফিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সৌহার্দ্য, ঐক্য এবং মানবিক মূল্যবোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।