
নিজস্ব প্রতিবেদক | Katha24
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম এর ওপর সশস্ত্র হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাংবাদিক নেতারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার সকাল ১১টায় মহানগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা এই ঘটনাকে পরিকল্পিত ও ন্যাক্কারজনক বলে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানান এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে রেজাউল করিম বলেন, “আমি শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি নই, বরং সাংবাদিক সমাজের একটি প্রতিনিধি। আমার ওপর হামলা মানে পুরো সাংবাদিক সমাজকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা।” তিনি উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র চাঁদা দাবি করে আসছিল এবং তাদের প্রত্যাখ্যান করায় পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। “আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তারা অস্ত্র নিয়ে ক্লাবে প্রবেশ করেছিল,” বলেন তিনি।
তিনি আরও জানান, “হামলার সময় আমার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করা হলে আমি প্রতিহত করি, যার ফলে আমি গুরুতর আহত হই। বর্তমানে আমি চিকিৎসাধীন। কিন্তু প্রধান আসামিরা এখনও প্রকাশ্যে ঘুরছে, যা আইনশৃঙ্খলার জন্য উদ্বেগজনক।”
মানববন্ধনে বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম, সহ-সভাপতি শেখ রহমতুল্লাহ এবং কোষাধ্যক্ষ মামুনুর রশীদসহ অন্যান্য সাংবাদিক নেতারা বক্তব্য প্রদান করেন। তারা মন্তব্য করেন যে, হামলা পূর্বপরিকল্পিতভাবে মাইক্রোবাস ভাড়া করে সংঘটিত হয়েছে।
রিভিরসিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা রাব্বানী জানান, প্রধান অভিযুক্ত নূরে ইসলাম মিলন ও সুরুজ আলী এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। বক্তারা দ্রুত গ্রেপ্তারের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে ক্লাব থেকে তাদের বহিষ্কারের দাবি জানান।
ঘটনার পর বোয়ালিয়া মডেল থানায় নূরে ইসলাম মিলন, সুরুজ আলীসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাংবাদিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দ্রুত গ্রেপ্তার না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
এতে উল্লেখযোগ্য যে, শিরোইল কাঁচা বাজার এলাকায় বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের নামে নূরে ইসলাম মিলন ও সহযোগীরা ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করায় শনিবার (৭ মার্চ) রাতে অস্ত্রসহ ক্লাবে ঢুকে তাণ্ডব চালান। হামলায় রেজাউল করিমের উরুতে গভীর ক্ষত হয় এবং ১৩টি সেলাই দিতে হয়।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র গাজিউর রহমান জানান, আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য গোয়েন্দা টিম কাজ করছে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।