
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | কথা২৪ প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬
বৈরুত/ওয়াশিংটন: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রণক্ষেত্রে এখন শুধু মিসাইল আর ড্রোনের শব্দ নয়, শোনা যাচ্ছে সময়ের টিকটিক শব্দ। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যকার এই ত্রিমুখী সংঘাত এখন আর কেবল সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই নেই; এটি পরিণত হয়েছে এক স্নায়বিক ‘সময়ের লড়াইয়ে’। রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাসিম আল-আজ্জাভি তাঁর সাম্প্রতিক নিবন্ধে এই অবস্থাকে ‘তিনটি ঘড়ি’-র লড়াই হিসেবে অভিহিত করেছেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের কৌশল ছিল ‘দ্রুত আঘাত, দ্রুত সমাধান’। তিনি চেয়েছিলেন ইরানকে একটি চরম অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের মুখে ফেলে দ্রুত আলোচনার টেবিলে আনতে।
স্টিভ উইটকফের মিশন: ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্টিভ উইটকফকে ওমানে পাঠান এবং ৬০ দিনের একটি কঠিন সময়সীমা বেঁধে দেন।
ভুল কৌশল: ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এবং নেতানিয়াহুর দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ট্রাম্প প্রশাসন ভেবেছিল, ইরানের নেতৃত্ব দ্রুত ভেঙে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে তেহরান তাদের প্রতিরোধ জারি রেখেছে, যা ওয়াশিংটনের পরিকল্পনাকে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে সময় সবসময় অপেক্ষাকৃত দুর্বল বা রক্ষণাত্মক পক্ষের পক্ষে কাজ করে। ইরানের ক্ষেত্রেও তাই ঘটছে। তেহরান জানে যে, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে:
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক ও জনমতের চাপ বাড়বে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির খরচ ও ঝুঁকি আকাশচুম্বী হবে।
আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে ইরানের সমন্বয় আরও সুসংহত করার সুযোগ তৈরি হবে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের ঘড়ি চলছে তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং নিরাপত্তার তাগিদে। লেবানন ও সিরিয়া সীমান্তে সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার ইসরায়েলিকে ঘরে ফেরানো এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে থামানো—এই দুই চাপের মুখে রয়েছে নেতানিয়াহু সরকার। ইসরায়েলের জন্য সময় মানেই হলো তাদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার তাগিদ, যা দীর্ঘায়িত হলে তাদের অর্থনীতিতেও বড় ধস নামতে পারে।
জাসিম আল-আজ্জাভির মতে, কামানের গোলার চেয়ে এখন ক্যালেন্ডারের পাতাই বেশি শক্তিশালী। ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া ৬০ দিনের সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় এখন প্রশ্ন উঠেছে—যুক্তরাষ্ট্র কি এই চোরাবালিতে আটকে যাবে, নাকি ইরান তাদের ‘ধৈর্যশীল কৌশলে’ শেষ হাসি হাসবে? মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে কার ঘড়ি আগে থামে, তার ওপর।
© কথা২৪ নিউজ ডেস্ক
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।