
নেপালের দুর্গম পাহাড়ি রাস্তায় বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরলেন তিন সাহসী দৌড়বিদ। কাঠমান্ডুর পাহাড়ি অরণ্যের মাঝে অনুষ্ঠিত ‘মঞ্জুশ্রী ট্রেইল রেস ২০২৬’-এর অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ‘১০০ মাইল’ (প্রায় ১৬১ কিলোমিটার) বিভাগে অংশগ্রহণ করে সফলভাবে দৌড় সম্পন্ন করেছেন পার্থ সাহা, মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামান ও এবাদ উল্লাহ।
১৭ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ দৌড় ১৯ এপ্রিল শেষ হয়। ৫২ ঘণ্টার কঠোর সময়সীমার মধ্যে বাংলাদেশি অ্যাথলেটদের পারফরম্যান্স ছিল উজ্জ্বল ও উল্লেখযোগ্য:
পার্থ সাহা: সম্পন্ন করেছেন ৪২ ঘণ্টা ৭ মিনিটে।
মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামান: সম্পন্ন করেছেন ৪৯ ঘণ্টা ৫১ মিনিটে।
এবাদ উল্লাহ: সম্পন্ন করেছেন ৫০ ঘণ্টা ৫০ মিনিটে।

দৌড়ের রুটটি কাঠমান্ডুকে ঘিরে থাকা সাতটি বিশাল পাহাড়ের সমন্বয়ে গঠিত। চড়াই-উতরাই, পাথুরে সিঁড়ি, ঘন জঙ্গল এবং ঝুলন্ত সেতুর এই পথ অতিক্রম করা ছিল শারীরিক ও মানসিক শক্তির একটি দৃষ্টান্তমূলক পরীক্ষা।
অভিজ্ঞতা শেয়ার করে পার্থ সাহা বলেন, "আমরা সমতলের মানুষ। হিমালয়ের এই মাউন্টেন রেঞ্জে দৌড়ানো একটি বিশ্বমানের চ্যালেঞ্জ। বনের অভ্যন্তরে চিতা বা অন্যান্য বন্যপ্রাণীর ভয়ও ছিল, কিন্তু আমাদের লক্ষ্য ছিল দৃঢ়।"
৫২ ঘণ্টার এই রেসে দৌড়বিদদের দুই রাত গহিন জঙ্গলের মধ্যে একা দৌড়াতে হয়েছে। জঙ্গল এবং ঝিরিপথ পাড়ি দেওয়ার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিয়ে এবাদ উল্লাহ জানান, "কখনো ঝুলন্ত সেতু, কখনো ঝিরিপথ—প্রতি পদক্ষেপ ছিল নতুন চ্যালেঞ্জ। এটি কেবল দৌড় নয়, এটি নিজের সীমানা অতিক্রম করার সংগ্রাম।"
‘১০০ মাইল’ বিভাগ ছাড়াও এই আসরের অন্যান্য ইভেন্টে আরও তিন বাংলাদেশি তাদের নাম উজ্জ্বল করেছেন:
৮০ কিলোমিটার বিভাগে: সফল হয়েছেন শুভ কুমার দে।
৫০ কিলোমিটার বিভাগে: সফল হয়েছেন সাইফুল ইসলাম ও নোশিন শারমিলি।
পেশাদার নেপালি দৌড়বিদ অর্জুন রায় কুলুং ২৬ ঘণ্টা ৩৭ মিনিটে এই রেস শেষ করে প্রথম হলেও, সমতলের দেশ থেকে এসে হিমালয়ের চ্যালেঞ্জিং পথে বাংলাদেশের এই সাফল্য আন্তর্জাতিক আলট্রা-ট্রেইল দৌড়ের জগতে একটি নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করেছে।
কথা২৪/বিভাগ: লাইফস্টাইল/খেলাধুলা
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।