
সরকারের নতুন উদ্যোগ: দেশের সব বন্ধ টেক্সটাইল এবং জুটমিল পুনরায় কার্যক্ষম করার লক্ষ্যে সরকার একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে, এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বেসরকারি খাতের মাধ্যমে পুনরায় চালু করার জন্য কাজ শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার কো-অপারেটিভ জুট মিলস এবং ঘোড়াশালের বাংলাদেশ জুট মিলস পরিদর্শন শেষে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন: প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, বন্ধ মিলগুলো পুনরায় চালুর উদ্দেশ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং প্রাথমিক ‘এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট’ (EOI) ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রস্তাবগুলো এখন মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। সরকার মূলত পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) অথবা দীর্ঘমেয়াদি ইজারার মাধ্যমে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ত করে এই শিল্পাঞ্চলগুলোকে সচল করতে চায়।
স্থানীয়দের কর্মসংস্থান নিশ্চিত: এক সময়ের কর্মচঞ্চল এসব মিল নিয়ে স্থানীয় জনগণের আবেগের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন:
“মিলগুলো পুনরায় চালু হলে সাধারণ কর্মীদের জন্য প্রায় শতভাগ কর্মসংস্থান স্থানীয় পর্যায় থেকে নিশ্চিত করা হবে। কারিগরি বা বিশেষজ্ঞ পদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে থেকে লোক নিয়োগ দেওয়া হবে না। এতে স্থানীয়দের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাবে।”
গবেষণার ওপর জোর: পাটের সোনালি আঁশের গৌরব ফিরিয়ে আনতে গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরেন শরীফুল আলম। তিনি জানান, প্রতিবেশী দেশের তুলনায় দেশি বীজের ফলন উন্নত করার জন্য বাংলাদেশ জুট রিসার্চ ইনস্টিটিউট (BJRI) কাজ করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে পাটের মণপ্রতি দাম তিন হাজার থেকে বেড়ে পাঁচ হাজার টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা চাষিদের জন্য লাভজনক।
অসামঞ্জস্যের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ: বিগত সময়ে পিপিপি প্রকল্পের অধীনে বিভিন্ন অনিয়ম বা লুটপাটের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকারি সম্পদ হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অসামঞ্জস্য বা অনিয়ম ধরা পড়লে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত: পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুব্রত শিকদার, বিজেএমসি’র চেয়ারম্যান কবির উদ্দিন শিকদারসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ সফল হলে নরসিংদীসহ সারাদেশের ঝিমিয়ে পড়া পাট শিল্পে আবার প্রাণ ফিরে আসবে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।