
বিদ্যুৎ সংকট ও কৃষি বিপর্যয়ের শঙ্কা
বরিশাল অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা প্রতি দিন ৮০০ মেগাওয়াট হলেও, গত ১৫ দিন ধরে সরবরাহ হচ্ছে অর্ধেকেরও কম। এই চলমান বিদ্যুৎ সংকট কৃষি খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মাঠের প্রায় ৪ লাখ হেক্টর বোরো ধান ও অন্যান্য রবি ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনা ক্রমশ বেড়ে চলেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের পুরো সময় জুড়ে জমিতে ১.৫ থেকে ২ ইঞ্চি পানি ধরে রাখতে হবে। কিন্তু সেচ পাম্পগুলি চালু রাখার জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ মিলছে না। তাছাড়া, সেচ কাজে ব্যবহৃত প্রায় ৮৭ হাজার পাওয়ার পাম্পের মধ্যে ৭৪ হাজারই ডিজেল চালিত। এসব পাম্পের জন্য প্রতিদিন ৫ লক্ষাধিক লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হলেও সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে, যা কৃষকদের উদ্বেগকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি ও হামের প্রকোপ
তাপপ্রবাহের কারণে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালগুলোতে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ২১০০ শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে এবং ১৭টি শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। হাসপাতালগুলোতে অসুস্থ রোগীদের চাপ ক্রমাগত বেড়ে চলছে।
জেলে ও কৃষি শ্রমিকের কর্মহীনতা
প্রখর রোদ এবং তাপের কারণে কৃষক ও কৃষি শ্রমিকরা মাঠে কাজ করতে পারছেন না। একই পরিস্থিতি জেলেদের ক্ষেত্রেও; তারা মাছ ধরতে নদীতে নামতে সাহস পাচ্ছেন না। এর ফলে বাজারে মাছের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস
তীব্র দাবদাহের মাঝে কিছুটা আশার খবর দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আগামী সোমবারের পর বরিশাল অঞ্চলের কিছু জায়গায় বৃষ্টিসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস প্রদান করা হয়েছে। তবে এর আগে শনিবার ও রবিবার তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। মার্চ মাসে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি ছিল ৪৯ শতাংশ। চলতি মাসে ১২০-১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও, ১০ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
বরিশাল অঞ্চলের কৃষক পরিবারগুলো বর্তমানে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে। বৃষ্টির অভাব এবং অসহনীয় গরম জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।