
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে আবারও একজোট হয়েছেন তাঁর দুই প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। দেশটির দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদ তাঁদের রাজনৈতিক দল একীভূত করে নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। চলতি বছরের শেষে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে এই জোট একসঙ্গে লড়াই করবে।
নতুন জোটের নাম ও নেতৃত্ব: রোববার (২৬ এপ্রিল) এক যৌথ বিবৃতিতে কট্টরপন্থী নাফতালি বেনেট ও মধ্যপন্থী ইয়ার লাপিদ এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন। বেনেটের দল ‘বেনেট ২০২৬’ এবং লাপিদের ‘ইয়েশ আতিদ’ মিলে গঠিত নতুন এই জোটের নাম রাখা হয়েছে ‘টুগেদার’। জোটের নেতৃত্বে থাকবেন খোদ নাফতালি বেনেট।
যৌথ ভাষণে যা বললেন নেতারা: একটি যৌথ টেলিভিশন ভাষণে নাফতালি বেনেট বলেন, "আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, আজ রাতে আমার বন্ধু ইয়ার লাপিদের সঙ্গে মিলে আমরা দেশের স্বার্থে সবচেয়ে দেশপ্রেমিক ও জায়নবাদী পদক্ষেপটি নিয়েছি।"
লাপিদও তাঁর সমর্থন জানিয়ে বলেন: "বেনেট ডানপন্থী হলেও একজন সৎ মানুষ। আমাদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা আছে। এই জোটের মূল উদ্দেশ্য হলো বিরোধী শিবিরকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং আসন্ন নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইসরায়েলকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।"
মূল লক্ষ্য ও প্রতিশ্রুতি: আদর্শগত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও কেবল নেতানিয়াহু বিরোধিতাই এই দুই নেতাকে এক সুতোয় গেঁথেছে। বেনেট ঘোষণা করেছেন, যদি তারা নির্বাচিত হন, তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার দিনটিতে সরকারের নিরাপত্তা ব্যর্থতা খতিয়ে দেখতে একটি জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন করবেন। উল্লেখ্য, বর্তমান নেতানিয়াহু সরকার এখন পর্যন্ত এ ধরনের তদন্তের দাবি নাকচ করে আসছে।
পুরোনো ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি: বেনেট ও লাপিদ এর আগেও দুবার জোটবদ্ধ হয়েছিলেন। ২০১৩ সালে তারা জোট করে নেতানিয়াহুকে কট্টর অর্থোডক্স দলগুলো ছাড়তে বাধ্য করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালে পুনরায় জোট বেঁধে নেতানিয়াহুর টানা ১২ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়েছিলেন। তবে সেই জোট সরকার মাত্র ১৮ মাস টিকে ছিল।
নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা: গাজায় চলমান যুদ্ধ এবং নিরাপত্তা বজায় রাখতে ব্যর্থতার অভিযোগে বর্তমানে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকেছে। এই সুযোগে ‘টুগেদার’ জোট গঠনের মাধ্যমে ইসরায়েলের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।