
কথা২৪ । ডেস্ক রিপোর্ট
মামলায় ওই নারী অভিযোগ করেন, তিনি গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের আটখালী এলাকার একজন ওমান প্রবাসীর স্ত্রী। স্বামী বিদেশে থাকার কারণে তিনি শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করেন। ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাত থেকে তাকে প্রায়শই ধর্ষণের শিকার হতে হয় তার শ্বশুর, মো. রুস্তুম গাজী (৬০) এর দ্বারা। একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে, তার শ্বশুর, শাশুড়ি হাওয়া বেগম এবং ননদ খালেদা বেগম ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
এমনকি একবার গর্ভপাত করানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।
এরপর, ২০২৬ সালের ২৬ মার্চ, গলাচিপা পৌর এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ওই নারী একটি ছেলেসন্তান জন্ম দেন। পরদিন, নবজাতককে তার অজান্তে ক্লিনিকের আয়া লিপি বেগমসহ কিছু অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি অপহরণ করে নিয়ে যায়। এই ঘটনার প্রায় এক মাস পর, তিনি গলাচিপা থানায় মামলা দায়ের করেন।
এ ঘটনায়, রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাতে পুলিশ ওই নারীর শ্বশুর রুস্তম গাজী এবং নবজাতক বিক্রিতে সহায়তা করার অভিযোগে ক্লিনিকের আয়া লিপি বেগমকে আটক করে।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিল্লুর রহমান, নবজাতক উদ্ধার ও দুজনের আটক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, যা এই মামলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের আটখালী এলাকার ওই নারী তার শ্বশুর মো. রুস্তম গাজীর (৬০) বাড়িতে বসবাস করতেন। তার স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাতে তাকে ধর্ষণের শিকার হতে হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে তিনি একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হন।
এ ঘটনায়, ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন এবং অভিযুক্তরা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এমনকি গর্ভপাত করানোরও চেষ্টা করেন, যা একটি ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
পরবর্তীতে, ২০২৬ সালের ২৬ মার্চ, ভুক্তভোগীকে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গলাচিপা পৌর এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে সিজারের মাধ্যমে একটি পুত্রসন্তান জন্ম দেন। পরদিন, নবজাতককে ভুক্তভোগীর অজান্তে ক্লিনিকের আয়া লিপি বেগমসহ কিছু অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি অপহরণ করে নিয়ে যায়। এই ঘটনার এক মাস পর, রবিবার গলাচিপা থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর, ওই নারীর শ্বশুর এবং লিপি বেগমকে পুলিশ আটক করে। পরবর্তীতে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে, গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘মামলার এজাহার অনুযায়ী ধর্ষণের দায়ে প্রধান অভিযুক্ত ও নবজাতক অপহরণের সাথে জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করেছি। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে নবজাতকও উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড চাওয়া হবে।’
এক বছরের বেশি সময় ধরে ধর্ষণ এবং নবজাতককে অপহরণের অভিযোগ কেন এক মাস পরে থানায় জানানো হলো, সেই ব্যাপারে মামলাকারী নারীর কাছ থেকে পরিষ্কার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ওসি জানান, পুলিশও বেশ কিছু বিষয়ে অস্পষ্টতায় রয়েছে। বিস্তারিত তদন্তের পর সব কিছু পরিষ্কার হওয়া যাবে, যাতে সত্য উদঘাটিত হয়।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।