কথা২৪ । ডেস্ক রিপোর্ট
জাতীয় সংসদের অধিবেশন যখন চলে, তখন প্রতি মিনিটের পেছনে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ব্যয় হয় গড়ে ১ থেকে ২ লাখ টাকা। এই বিপুল অর্থের জোগানদাতা এ দেশের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ, যারা রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে রক্তপানি করা ঘাম ঝরিয়ে সরকারকে ট্যাক্স দেয়। অথচ অভিযোগ উঠেছে, এসি রুমে বসে জনপ্রতিনিধিরা যখন তর্কে কিংবা গালগল্পে সময় পার করেন, তখন রাজপথের দাবি আর ঝুলে থাকা বিচারগুলো হিমাগারে চলে যায়।
বিশেষ করে দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল প্রতিটি অন্যায়ের দ্রুত বিচার হবে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আলোচিত ‘হাদি হত্যা’র মতো নৃশংস ঘটনার বিচার নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো জোরালো পদক্ষেপ বা দৃশ্যমান অগ্রগতি চোখে পড়ছে না। সাধারণ জনগণের প্রশ্ন—নতুন সরকার আসার পরও কেন এই নীরবতা? কার ইশারায় থমকে আছে বিচার প্রক্রিয়া?
দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ আজ চরম বিদ্যুৎ বিভ্রাট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আর কর্মসংস্থানের অভাবে দিশেহারা। একদিকে কৃষকরা যখন মণে ১২০০ টাকার টমেটো পচে যাওয়ার ভয়ে বৃষ্টির মধ্যে আহাজারি করছেন, অন্যদিকে সংসদের পেছনে ব্যয় হওয়া প্রতি মিনিটের হিসাব মেলাতে পারছে না সাধারণ নাগরিকরা। এসি রুমে বসে নীতি নির্ধারণী গালগল্পের চেয়ে এখন বেশি প্রয়োজন মাঠপর্যায়ের সমস্যা সমাধান এবং অপরাধীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো।
সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের দাবি এখন স্পষ্ট—জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের টাকায় চলা প্রতিটি মুহূর্তের দাম দিতে হবে এবং হাদি হত্যার মতো প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত শুরু করতে হবে। অন্যথায়, সাধারণ মানুষের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ যেকোনো সময় বড় ধরনের অসন্তোষে রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।