
কথা ২৪।ক্যাম্পাস প্রতিনিধি। ইবি
একই মঞ্চে আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ, নীতি সংলাপ এবং শিক্ষার্থীদের সাফল্যে মুখর এই আয়োজন বাংলাদেশের বায়োটেকনোলজি খাতে নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক ডিএনএ দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করে নেটওয়ার্ক অব ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্টস অব বাংলাদেশ (NYBB)। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল “Omics and AI 2026”। এতে দেশ-বিদেশের গবেষক, নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা এবং প্রায় ৭৫০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
উদ্বোধনী অধিবেশন ও নীতি সংলাপ
সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) প্রফেসর ড. সায়েমা হক বিদিশা। তিনি বায়োটেকনোলজি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও গবেষণার পরিবেশ উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন BCSIR-এর চেয়ারম্যান ড. সামিনা আহমেদ এবং অ্যারিস্টোফার্মার পরিচালক সাদমান শাহরিয়ার হাসান।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আদনান মান্নান বাংলাদেশের বায়োটেক খাতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সম্মেলনে মাইক্রোবিয়াল জিনোমিক্স, প্রিসিশন মেডিসিন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উঠে আসে।
বৈশ্বিক অংশগ্রহণ ও জ্ঞান বিনিময়
অস্ট্রেলিয়া, কোরিয়া ও চীনসহ বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে সম্মেলনটি আন্তর্জাতিক রূপ লাভ করে। প্লেনারি সেশন, পলিসি টক, গবেষণাপত্র উপস্থাপনা, থিসিস প্রদর্শনী এবং বিজনেস আইডিয়া কন্টেস্টের মাধ্যমে তরুণ গবেষকদের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি হয়।
সম্মেলনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিনিধি দল ৪টি ব্যক্তিগত পুরস্কারের পাশাপাশি মর্যাদাপূর্ণ ‘NYBB Best Event Award-2025’ অর্জন করে। তাদের ‘বায়োটেক স্কুলিং’ উদ্যোগ স্কুল পর্যায়ে জীবপ্রযুক্তি শিক্ষার প্রসারে বিশেষ স্বীকৃতি পায়।
পোস্টার প্রেজেন্টেশন ও ফটোগ্রাফি ক্যাটাগরিতে ইবির চারজন শিক্ষার্থী পুরস্কৃত হন। বায়োইনফরমেটিক্স ও মেডিকেল মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে তাদের এই অর্জন সম্মেলনে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়।
দিনব্যাপী আয়োজনে বায়োস্টোরি, বায়োরিলস, বায়োলেন্স (BioLens), বায়োপোস্টার এবং বিজনেস আইডিয়া কন্টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়। গবেষণায় অবদানের জন্য ৯ জন তরুণ জীবপ্রযুক্তিবিদকে ‘অ্যাওয়ার্ড অব এক্সিলেন্স’ এবং উদীয়মান গবেষকদের ‘রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়।
সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বায়োটেক খাতে উদ্যোক্তা উন্নয়নে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেন। এ সময় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও শিক্ষাবিদ উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের মতে, ‘ফিউচার বায়োটেক সামিট ২০২৬’ বাংলাদেশের বায়োটেকনোলজি ও এআই গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, তরুণ গবেষকদের অংশগ্রহণ এবং উদ্ভাবনী চিন্তার সমন্বয়ে দেশকে একটি শক্তিশালী বৈশ্বিক বায়োটেক হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুদৃঢ় হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।