
কথা২৪ । নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ১১ বছর বয়সী শিশু হোসাইন হত্যাকাণ্ডের পেছনে বেরিয়ে এসেছে এক ভয়াবহ ও অবিশ্বাস্য সত্য। কোনো পুরনো শত্রুতা বা স্বার্থের দ্বন্দ্ব নয়, বরং 'জেল জীবন কেমন' তা সরাসরি দেখার বিকৃত কৌতূহল মেটাতেই সমবয়সী ও কিশোর বন্ধুরা মিলে পরিকল্পিতভাবে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান মুন্সি।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মরদেহ উদ্ধার
নিহত হোসাইন তার বাবার সঙ্গে শহরে ফুল বিক্রি করত। গত ১৮ এপ্রিল সকালে সে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর গত ২৩ এপ্রিল শুক্রবার বিকেলে দাপা ইদ্রাকপুর ব্যাংক কলোনী এলাকার মিঠু মিয়ার একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
খুনের নেপথ্যে কিশোরদের 'ভয়ঙ্কর শখ'
পুলিশ সুপার জানান, ফতুল্লা রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত আড্ডা দেওয়া একদল কিশোর এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী। ঘাতক চক্রের সদস্য সাইফুল, তানভীর ও ইউনুস নিজেদের মধ্যে আলোচনার এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেয় যে, "খুন করলে জেলে যেতে হয়"—আর এই অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যেই তারা কাউকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, তারা ফুল বিক্রেতা হোসাইনকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। তাকে গাঁজা সেবনের প্রলোভন দেখিয়ে ওই পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই ঘাতক চক্রের আরও তিন সদস্য রাহাত, হোসাইন ও ওমর উপস্থিত ছিল। সবাই মিলে হোসাইনকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করে এবং লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
তদন্ত ও গ্রেপ্তার অভিযান
মরদেহ উদ্ধারের পরপরই ছায়া তদন্ত শুরু করে পুলিশ। প্রথমে ইয়াসিন নামে এক কিশোরকে আটকের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আরও ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ৬ জনের মধ্যে ৪ জন মামলার এজাহারভুক্ত এবং বাকি ২ জনকে তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে।
পুলিশি তথ্যের সারসংক্ষেপ:
মোট গ্রেপ্তার: ৬ জন।
স্বীকারোক্তি: মামলার প্রধান আসামি ইয়াসিন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছে।
আলামত: হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
পলাতক: ঘটনার সাথে জড়িত আরও একজন এখনো পলাতক রয়েছে, তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
পুলিশ সুপার এই ঘটনাকে কিশোর অপরাধের এক চরম ও বিপথগামী বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ঘটনার এমন অবিশ্বাস্য মোড় খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও হতবাক করে দিয়েছে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।